Skip to main content

Posts

Showing posts from March, 2020

প্রোডাক্টিভ মুসলিম

মঙ্গলবার দুপুর ১২ঃ৪০ ২৪ মার্চ ২০২০ কোয়ারেন্টাইনে সময় নষ্ট না করে বই পড়ার চেয়ে ভালো কোনো কাজ হতে পারে না। আর এ সময়ে প্রডাক্টিভ থেকে এর সদ্বব্যবহারের জন্য বইটি পড়া শুরু করি। প্রডাক্টিভ থাকার জন্য একজন মুসলিমের অবশ্য পাঠ্য বই। বইয়ের শুরতে পবিত্র কুরআনের একটি আয়াতে চোখ আটকে গেলো। “তার (মানুষের) জন্য তার সম্মুখভাগে ও পশ্চাৎভাগে সার্বক্ষণিক প্রহরী নিযুক্ত রয়েছে, যে আল্লাহর নির্দেশে তাকে (অবধারিত নয় এমন বিপদ থেকে) রক্ষা করে; এবং আল্লাহ কোন জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা নিজ অবস্থা নিজে পরিবর্তন করে; আর আল্লাহ যখন কোন জাতিকে (তাদের কাজের জন্য) শাস্তিদানের ইচ্ছা করেন তখন কেউ তা প্রতিরোধ করতে পারে না, আর তিনি ছাড়া তাদের কোনো অভিভাবক নেই।” - সুরা আর-রা'দ, আয়াত ১১ আল্লাহ আমাদের রক্ষা করবে বলে বুলি আউরানো জাতির জন্য ১৪০০ বছর আগে পবিত্র কুরআনে সুরা আর-রা’দ এর ১১ নম্বর আয়াত নাযিল হয়েছিলো। শুধু আল্লাহ আল্লাহ বলে চিৎকার পারাই আল্লাহর ইবাদত করা নয়। তাঁর বলা প্রতিটা কথার আমল করাও ইবাদত। আমাদের হাটা-চলা, কথা-বার্তা, কাজ-কর্ম এক ধরনের ইবাদত। পরিবারের প্রতি দায়িত্ব, সমাজের প...

Low Self Esteem

রবিবার রাত ৯ঃ৩৫ ২২ মার্চ ২০২০ আমি সব সময়ই এভারেজ ছিলাম। পড়াশুনা, খেলাধুলা, অন্য যে কোনো কাজে। ক্রিকেট একটু ভালো খেলতাম তবে ফুটবল একেবারেই ভালো নয়। ভাগ্যক্রমে আমি এমন পরিবেশে বড় হয়েছি যেখানে ছেলে থেকে বুড়ো সবাই মারাত্মক খেলা পাগল। পুরো মাঠ ঘুরে শেষমেশ জায়গা হয় লেফট ব্যাকে। কাউকে আটকে পারতাম না। সবাই পায়ের নিচ থেকে বল নিয়ে চলে যেত। এ নিয়ে চরম হতাশায় ভুগতাম। আমাদের মাঝে মাঝে খেলা শেখাতো সেতু ভাই, উনি প্রফেশনাল ফুটবলার। আমার পিছনে অনেক সময় নষ্ট করে বুঝলেন আমাকে দিয়ে হবে না। পাড়ার মাঠেও এতো বাজে খেলি যা বলার মতো না। হুট করে একদিন খেলা শেষে সেতু ভাই আমাকে ডেকে বললেন, “তোমার সমস্যা কি জানো? তুমি হীনমন্যতায় ভুগো। খেলা শুরুর আগে তুমি খেলা হেরে যাও। তুমি কখনো ভাবো না যে তুমি কোনো একটা শট ভালো খেলবা, কাউকে ভালোভাবে ট্যাকেল করতে পারবা। খেলা তোমার মাথায় মাঠে না।” আমি ঐদিন বুঝি নাই কিছু উনি কি বললেন। আমি শারীরিকভাবে হ্যাংলা কিন্তু একবার মাঠের সুঠামদেহী মিড ফিল্ডারকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিই। আসলে ওর সাথে রেষারেষির জন্য দিয়েছিলাম। আমি কখনো কল্পনাও করি নাই তাকে ফেলে দিবো। কি যেন এক ঐশ্বরিক শ...

লকডাউন

বৃহঃস্পতিবার রাত ১১ঃ১৫ ১৯ মার্চ ২০২০ ইন্ট্রোভার্টেরা সাধারনত একাকী থাকতে বেশী পছন্দ করে। চুপচাপ, নির্জন, কম কথা বলা একজন ইন্ট্রোভার্ট বা অন্তর্মুখীর সহজাত গুন। আর এই কারনেই তারা নিজেদের নিয়ে ভাবতে বেশি সময় পায়। তাই এরা লকডাউন, কোয়ারেন্টাইন কিংবা আইসোলেটেড থাকা নিয়ে অতোটা চিন্তিত না।  করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে গত ১০ মার্চ ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসি। সেই থেকে মোটামুটি নির্জনে নিভৃতে বাস করতেছি। নিজেই নিজেকে লকডাউন করে ফেলছি। এই করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা আগে থেকে আচঁ করতে পেরে নিজে এবং পরিবারের সবাই সচেতন অবস্থানে ছিলাম। আমি ইন্ট্রোভার্ট বলে এভাবে থাকতে খুব একটা কষ্ট হচ্ছে না। বই পড়ে ইন্টারনেট চালিয়ে সময় কেটে যাচ্ছে। কিন্তু অন্য সবার কি অবস্থা ভেবেই গা শিউরে উঠে। আজকে প্রথম মাদারীপুরের শিবচর লকডাউন করেছে, গাড়ি চলাচল বন্ধ। অন্য দেশের বন্ধুরা তাদের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করছে। এছাড়া সোসাল মিডিয়ায় যা কিছু দেখছি তাতে মনে হয় আগামী ২/৩ মাস বাজে রকমের খারাপ কাটবে। আর এই ভয়াবহতা যে করোনা ভাইরাস গেলেই কেটে উঠতে পারব তা ভাবাটা ভুল। চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে দেশ। শুধু বাংলাদেশই না পুরো বিশ্বে...

কোরা বাংলা এবং আমার ভাবনা

সোমবার রাত ১০ঃ৫০ ১৬ মার্চ ২০২০ আজ কোরা বাংলায় ১০মিনিট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আয়মান সাদিক ভাইয়ের একটি উত্তর পড়লাম। বাংলাদেশে পোশাক সংস্থার বিজনেস বা স্টার্টাপ নিয়ে তার এটি প্রথম উত্তর ছিলো। এর অনেক আগে থেকে মাশরুফ হোসেইন ভাই, শামীম ভাই, নাজমুল ভাইসহ আরও অনেকে আছেন যারা বাংলাদেশের হয়ে কোরা বাংলায় লিখে আসছেন। তাদের ভালো প্রভাব আছে বলতে হয়।   আমি কোরা ব্যবহার শুরু করি সম্ভবত ২০১৪ সালে। পুরোনো সেই একাউন্ট থেকে ইউটিউবে ট্রাফিক আনতাম। শুরু হয়েছিলো জ্ঞানার্জনের তাড়না থেকে, পরে মার্কেটিং করেছিলাম। কোনো এক কারনে সে একাউন্ট মুছে ফেলি। তারপর যখন কোরা বাংলা আসে তখন বাংলা লেখগুলো পড়াতাম। তারপর সেপ্টেম্বর/অক্টোবর মাসে লিখালিখি শুরু করি।  কোরা বাংলা যে শুধু বাংলাদেশীদের জন্য তা কিন্তু না। এখানে ভারতীয় বাঙালী যারা পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা ছাড়াও যেখানে বাংলা ভাষা-ভাষীরা আছেন তারাও আছেন। একটা বেপার আমার কাছে ভালো ঠেকে না যে একটা সময় বাংলাদেশীদের চেয়ে ভারতীয় কোরা ব্যবহারকারীর প্রভাব বেশী। যদিও বর্তমানে অনেকটা শিথিত অবস্থায় এসে গেছে। এর মধ্যে বেশকিছু উগ্রপন্থি আছে যারা সব ...

এক ফিনিক্স পাখির গল্প

শুক্রবার রাত ১০ঃ৩৫ ০৬ মার্চ ২০২০ যাফি ভাই আমাদের ফিনিক্স পাখি বলতেন। রূপকথার সেই ফিনিক্স পাখি যে আগুনে পুড়ে মৃত্যুবরণ করে এবং এরপর নিজের ছাই থেকেই আবার নতুন করে জন্ম নেয়। উনি আমাদের এভাবেই শেখাতেন। উনি বলতেন শিখবে, পড়বে, লড়বে, হারবে, শেষ হয়ে যাবে আবার নবউদ্যমে পুনর্জনম হবে। আমি কিংবা আমরা রুপকথা ফিনিক্স পাখি কিনা জানি না তবে আমি এমন একজনকে চিনি যার জন্যেই বোধায় ফিনিক্স নামের কোনো এক পাখির নাম পৌরাণিক ইতিহাস লিখা হয়েছিলো। ক্যাপ্টেন মাশরাফি ৭ সার্জারি, ১৪ সেলাই আর মাঠে শর্ট রানে খুরায় খুরায় বল করা আমরা সবাই দেখেছি। কিন্তু আমি আরও  যা কিছু তার মধ্যে দেখেছিলাম তা নিয়ে বলব। ১৪০ কিমি. গতিতে বল করা প্রথম বাংলাদেশী পেসার হিসেবে আমি মাশরাফিকে-ই চিনি। মাঠে জার্সির কলার উঁচু করে রাখা একমাত্র ক্রিকেটার মাশরাফি-ই। যেখানে আমরা একটা সময় সম্মানজনক হারেই খুশি ছিলাম, সে জায়গা থেকে বের করে এনে প্রতিটা ম্যাচ জিতানোর ক্ষমতা রাখবার বিশ্বাস জুটিয়েছিলো মাশরাফি-ই। একাই কাধে করে পুরো টিম বয়ে নিয়ে যেতে মাশরাফিকে-ই দেখেছি। উদ্ধত ভঙ্গিমায় প্রতিপক্ষকে ধরে দিবানে বলার সাহস শুধু মাশরাফির-ই...

ডমিনোস ইফেক্ট

বৃহঃস্পতিবার রাত ১১ঃ০০ ০৫ মার্চ ২০২০ ছোটবেলায় একটা গেম খেলতাম, সারি সারি ইট দাড়া করিয়ে সেটাকে লাথি মেরে ফেলে দেওয়া। একটা ইট ফেলে দিলে তা পরের ইটে গিয়ে হিট করে, এটা আবার তার পরের টায়। এভাবে একটা একটা করে সব ইট পড়ে যায়। মজার বেপার হলো, ইন্টারনেটের জগতে এসে জানতে পারি এই খেলার একটা নামও আছে, ডোমিনো গেম। আর গেমটার মজাই হলো আপনি একটাকে হিট করবেন ইফেক্ট বাকি গুলোয় পড়বে। বাংলায় প্রবাদ আছে, "নগর পুড়িলে বাঁচে কি দেবালয়।" উদাহরণস্বরুপ   আজ যদি ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ লাগে, আর বাংলাদেশ যদি বলে তাতে আমার কি যুদ্ধ ওরা করতেছে করুক তাহলে এই আচারণকে বাচ্চামীর চেয়ে কম কিছু ভাবা অনুচিত। সাম্প্রতিক করনা ভাইরাসের ফলে বাহিরের দেশ বিশেষ করে চীন থেকে আমদানীকৃত দ্রব্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। কিন্তু ভাইরাসে আক্রান্ত চীন; বাংলাদেশ তো না। তবুও এই করনা ভাইরাস বাংলাদেশেরও মাথা ব্যথার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডোমিনোস ইফেক্টও তেমনি, কোনো একটা সিস্টেমে হিট করলে তার প্রভাব বাকিসব সিস্টেমেও গিয়ে পড়ে। আর এটা আমরা মানুষ বা হোমো স্যাপিয়েন্সের লাইফস্টাইলের সাথেও জড়িয়ে আছে। ধরুন, আমি সকালে ঘুম থেকে উঠি, এক...

বিচ প্লিজ

সোমবার রাত ১০ঃ৩০ ২ মার্চ ২০২০ ২২ বছর বয়সী মালহার কালাম্ব নামের একজন ভারতীয় ইনভায়োরোমেন্টালিস্ট মুম্বাই বিচ থেকে ৩ হাজার ৮ শত টন গার্বেজ পরিষ্কার করেছে। সে তাঁর বন্ধুদের নিয়ে  বিচ প্লিজ  নামে একটি নন-প্রফিট কমিউনিটি গড়ে তুলে যেখানে তাঁরা কোনো ডোনেশন ছাড়াই নিজ পকেট মানি থেকে এই কাজ করছে গত তিন বছর ধরে। এই কাজের জন্য শুধু জাতীয় না আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে সে। পুরো দুনিয়া যেখানে বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ে চিন্তিত, মিটিং-মিছিল-সেমিনার নিয়ে ব্যস্ত, সেখানে সে সবার অগচরে নিজ কাধে দায়িত্ব তুলে নিয়ে নেমে পড়েছে রণক্ষেত্রে। ছুত আর অযুহাত এই দুটো জিনিস ঘুণে ধরার মতো। আপনাকে ভিতরে ভিতরে খেয়ে ফেলবে কিন্তু বাহির থেকে বুঝতে দিবে না যে আপনার শেষ করে দিচ্ছে। আমরা যারা অযুহাত দিতে এক্সপার্ট তাঁরা একটা বার চিন্তা করে দেখুন তো মালহার যদি ডোনেশন কিংবা সময় অথবা শরীর নোংরা হওয়ার অযুহাতে "বিচ প্লিজ" মুভমেন্ট শুরু না করত তাহলে কি আজ সে ও তাঁর বন্ধুরা সমুদ্র থেকে প্রায় চার হাজার টন প্লাস্টিক পরিষ্কার করতে পারত, কখনোই পারত না। আমি সবপ্রায় সব সময় শুনতে পাই, আমার কাছে ক্যামেরা নাই এই জন্য কোয়া...

ডেইলি জার্নাল

রবিবার রাত ১১ঃ০০ ১লা মার্চ ২০২০ জার্নালিং বা ডায়েরি লেখা কলেজে উঠে শুরু করি। আর জীবনের লক্ষ্য কিংবা যে কোনো ধরনের লক্ষ্য ডায়েরিতে লেখে রাখার খুব একটা অভ্যাস ছিলো না। তবে ডায়েরীতে লিখতাম, কি করছি করতেছি কিংবা করার ইচ্ছা আছে। নিয়মিত না তবে মাঝে মাঝে লিখতাম। কলেজে থাকা অবস্থায় শেখা এই একটি অভ্যাস আমার পরবর্তীতে অনেক উপকারে এসেছে। Photo by  Estée Janssens  on  Unsplash কথিত আছে, আপনি যদি আপনার ইচ্ছার কথা নির্দিষ্ট করে ডায়েরীতে লিখে রাখেন তবে তা ৪০% এর বেশী সম্ভবনা থাকে পূরণ হওয়ার। এর পেছনে সায়েন্স কিংবা সাইকোলজী কি কাজ করে আমার জানা নেই। কিন্তু আমি এই ইচ্ছা বা লক্ষ্যের বেপারে শুধু ডায়েরীতে না লিখে একধাপ এগিয়ে মান্থলি লাইফ ট্র্যাক করেছি। আমি অগোছালো মানুষ তাই প্রতিদিন করাটা কষ্টের হয়ে যায়। আর এই ১০ মিনিটের কাজ টুকু করে আমি নিজে আগের চেয়ে ৩গুন বেশি কিছু অর্জন করেছি। আমি কোনো রকেট সায়েন্স কিছু করি নাই। শুধু মাসের এক তারিখে একটা সাদা পৃষ্ঠার উপরে মাসের নাম লিখে ডুডল আর্টের হালকা একটা ডিজাইন করে দিয়েছি। দেখতে ভালো লাগে, আর কিছু একটা শিখেছি তার সদব্যবহারও করল...