Skip to main content

বিচ প্লিজ

সোমবার
রাত ১০ঃ৩০
২ মার্চ ২০২০

২২ বছর বয়সী মালহার কালাম্ব নামের একজন ভারতীয় ইনভায়োরোমেন্টালিস্ট মুম্বাই বিচ থেকে ৩ হাজার ৮ শত টন গার্বেজ পরিষ্কার করেছে। সে তাঁর বন্ধুদের নিয়ে বিচ প্লিজ নামে একটি নন-প্রফিট কমিউনিটি গড়ে তুলে যেখানে তাঁরা কোনো ডোনেশন ছাড়াই নিজ পকেট মানি থেকে এই কাজ করছে গত তিন বছর ধরে। এই কাজের জন্য শুধু জাতীয় না আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে সে। পুরো দুনিয়া যেখানে বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ে চিন্তিত, মিটিং-মিছিল-সেমিনার নিয়ে ব্যস্ত, সেখানে সে সবার অগচরে নিজ কাধে দায়িত্ব তুলে নিয়ে নেমে পড়েছে রণক্ষেত্রে।


ছুত আর অযুহাত এই দুটো জিনিস ঘুণে ধরার মতো। আপনাকে ভিতরে ভিতরে খেয়ে ফেলবে কিন্তু বাহির থেকে বুঝতে দিবে না যে আপনার শেষ করে দিচ্ছে। আমরা যারা অযুহাত দিতে এক্সপার্ট তাঁরা একটা বার চিন্তা করে দেখুন তো মালহার যদি ডোনেশন কিংবা সময় অথবা শরীর নোংরা হওয়ার অযুহাতে "বিচ প্লিজ" মুভমেন্ট শুরু না করত তাহলে কি আজ সে ও তাঁর বন্ধুরা সমুদ্র থেকে প্রায় চার হাজার টন প্লাস্টিক পরিষ্কার করতে পারত, কখনোই পারত না।

আমি সবপ্রায় সব সময় শুনতে পাই, আমার কাছে ক্যামেরা নাই এই জন্য কোয়ালিটি ভিডিও বানাতে পারি না। আমার কাছে ভালো ল্যাপটপ নাই, আমার কাছে কাজ করার মতো টিম নাই। আরে ভাই সব কাজে অযুহাত খুজেন কেন? আপনার এডিট করার মতো একটা পিসি, ভিডিও করার মতো ক্যামেরা আর মাথায় ঘিলু থাকলেই চলে। অনেক সময় ক্যামেরা পিসি কোনোটা না থাকলেও কাজ করা যায় বন্ধুদের ম্যানেজ করে। উদাহরণ দিলে শ খানেক নাম বলা যাবে যাদের শুরুটা ক্যামেরা কিংবা পিসি ছাড়া করেছিলো এখন তারা সফল কন্টেন্ট ক্রিয়েটর।

বি ভনারেবল ব্রো! সব কিছু নিতে শিখুন, একটু চেষ্টা করুন। দুনিয়াটা অতোটাও কঠিন না, কঠিন আমরা করে ফেলি। নিজেদের মাথায়, ব্রেইনে ভেবে ভেবে কঠিন করে ফেলি। শুরু করে দেন রাস্তা বের হবে।


প্লাস্টিক এই দুনিয়াটাকে ঘুণের মতো খেয়ে ফেলছে। সমুদ্রের প্রাণী মরছে বলে ভাইবেন না, ওরা মরছে তাতে আমার কি। আমার মাটি উর্বরতা হারাচ্ছে, ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে। এই প্লাস্টিকের কারণে ক্যান্সার সব আরও কত সব ঘাতক রোগ ছড়াচ্ছে। পুঁজিবাদিরা তো প্লাস্টিক উৎপাদন বন্ধ করবে না। তারচেয়ে আমরাই ব্যভার বন্ধ করে দিই। বাহিরে বের হলে সাথে একটা ব্যাগ রাখি। যেখানে প্লাস্টিক ব্যাগের ব্যবহার করতাম সেখানে এই ব্যাগ কাজে লাগাই। সফট ড্রিংক্স খাওয়া বাদ দিই, পানি খাওয়ার জন্য বোতলের চেয়ে কাচ কিংবা স্টিলের বোতলের ব্যবহার করি। আরও আইডিয়া খুজি কিভাবে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো যায়। একেবারে প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করা অসম্ভব তবে এত ব্যবহার আমরা কমাতে পারি।

এই দুনিয়াটা সুন্দর, অনেক সুন্দর।
আসুন এটাকে আমরা নষ্ট না করি।

Comments

Popular posts from this blog

প্রথম ইউটিউব ভিডিও যেমন হওয়া উচিৎ

একজন ইউটিউবারে প্রথম ভিডিও স্পেশাল হওয়া উচিত। চাকুরির প্রথমদিন স্পেশাল হওয়া উচিত। প্রিয়তমার প্রথম সাক্ষাত স্পেশাল হওয়া উচিত। প্রথম বেতনে কেনা জিনিসটিও স্পেশাল হওয়া উচিত। আসলে আমাদের প্রথম যে কোনো কিছুই স্পেশাল বা বিশেষ হওয়া উচিত কারণ এটি প্রথম এখান থেকেই শুরু… ব্রিটিশ আমেরিকান মোটিভেশনাল স্পিকার ও লেখক সাইমন সিনেকের " Start With Why "  বইটি পড়েছিলাম। সেখানে সাইমন সিনেক স্টিভ জবসের এ্যপল থেকে শুরু করে রাইট ভ্রাতাদ্বয়ের বিমান উড়ানো নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। তিনি W-H-W অর্থ্যাত What How Why ফর্মুলা বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেছিলেন যে দুনিয়ার যত কোম্পানি/স্টার্টাপ বা বিজনেস সেরা ও সফল হয়েছে তাদের মূলে ছিলো  'কেন'।  প্রোডাক্ট বা  কি  সবাই বিক্রি করে, মোটামুটি সবারই   কিভাবে  বা বিজনেস স্ট্র্যাটেজি একই কিন্তু যারা সফল হয়েছে তাদের সবার  কেন-টা   ভিন্ন ছিলো। ইউটিউবে একটি ভিডিও আপলোড করে সফলতা পাওয়া আষাঢের গল্পের মতো শোনায়। ইউটিউবে সফলতার একমাত্র পথ কন্সিসট্যান্সি বা ধারাবাহিকতা। আপনি দিনক্ষণ মেনে ভিডিও আপলোড করে যান সফলতা আসবে। অনেকে একটি দুইটি তিনটি ভিডিও ...

নিক নেমনামা

মঙ্গলবার রাত ৮ঃ৪৫ ২৮ জানুয়ারী ২০২০ অন্যসব দেশে কি হয় জানি না তবে আমাদের দেশে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাদের আসল নামের সাথে কোনো ব্যাঙ্গাত্মক নাম নেই। এই ব্যাঙ্গাত্মক ডাকনামের সংস্কৃতির উৎপত্তি কোথায় আমার জানা নেই। আর দুনিয়ায় এমন কিছু মানুষ যারা পথে-ঘাটে, জলে-স্থলে, শহরে-বন্দরে, বন্ধু-গফ যে কোনো জায়গায় ঐ নাম ছাড়া অন্য নামে ডাকে না। স্কুল-কলেজে এমন এক বন্ধু পাবেন যে সবার নামের আকিকা করে থাকে। কলেজে এই রোল আমিও প্লে করছি। অনেকের নাম আমার দেয়া। কিন্তু হুট করে একদিন আমার নামকরণ করা হলো মাইকেল। মুনতাসির থেকে মাইকেল। wtf… ভাই দিবি ভালো নাম দে। কি একটা ক্ষ্যাত নাম দিছিস (সেসময়কার ভাবনা)। কলেজে ক্রিকেট মোটামুটি খেলতাম। ঐসময় অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন ছিলো মাইকেল ক্লার্ক। উহু, সবার সামনে যখন বন্ধুরা এই নামে ডাকত, যখন অকওয়ার্ড ফিল করতাম তখন নিজেকে মিস্টার ক্যাপ্টেন ভেবে কুল থাকার চেষ্টা করতাম। পাগলের সুখ মনে মনে যাকে বলে আরকি। পোস্টারটি আমার করা জ্যাক স্প্যারো ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো পাইরেটস অব দ্য ক্যারাবীয়ান সিরিজ ও ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারোর অনেক বড় ফ্যান আমি। সেই সুব...

কেন বই পড়ি

রবিবার রাত ২ঃ০০ ২৬ জানুয়ারি প্র মথ চৌধুরির কাছে বই পড়া শখটা মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ শখ হলেও তিনি কাউকে শখ হিসেবে বই পড়তে পরামর্শ দিতেন না। কিন্তু আমি যতটুকু বই পড়ি শখের বসেই পড়ি। তবে আমাকে বই পড়তে যে মাহমুদুল শিখিয়েছে তা অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই। বন্ধু হিসেবে বিচার করবার আগে আমার বিবেক তার এই ঋণের কথা বারবার স্বরণ করিয়ে দেয়। যদ্দুর মনে পড়ে ওর কাছ থেকে নেওয়া রবিনসন ক্রুশ দিয়ে বই পড়া শুরু, তারপর পড়েছিলাম থ্রি কমরেড। এই বইয়ের কাছে জিন্দেগী না মিলেগী দোবারা কিংবা দিল চাহতা হে সিনেমার গল্প ফিকে পড়ে যায়। Photo by  Eliabe Costa  on  Unsplash প্রায় শুনতে পাওয়া যায় মানুষ বই কেনো পড়ে কেনো? ওয়ারেন বাফেট দিনে ৫ থেকে ৬ ঘন্টা ব্যয় করেন ৫টি পত্রিকা এবং অন্তত ৫০০ পৃষ্টার করপোরেট রিপোর্ট, ম্যাগাজিন পড়তে। তো সোজাসাপ্টা উত্তর জ্ঞানার্জনের জন্য। যে কারোরই বই পড়ার মুখ্য উদ্দেশ্য জ্ঞানার্জন। তবে যদি পাল্টা প্রশ্ন আসে যে সাহিত্য পড়ে কেনো? তাহলের এর উত্তরের জন্য দুবার ভাবতে হয়। সাধারনত লাজুক প্রকৃতির মানুষের বই বেশি পড়ে। আবার যারা একবার বই পড়ার মোহে ডুবে যায় তাদের নেশা হয়ে দাঁড়...