Skip to main content

Posts

Showing posts from January, 2020

ইউটিউবে সফলতার মন্ত্র

বুধবার বিকেল ৪ঃ০০ ২৯ জানুয়ারী ২০২০ আজ ১৮তম ব্লগ পোস্ট লিখছি। আমার লেখাগুলো কতটা সাবলীল জানি না, তবে আমি আমার এক বছর আগের লেখা আর আজকের লেখার মধ্যে বিস্তর ফারাক দেখতে পাই। আমি কতটুকু নিজের উন্নতি করেছি তার উপলব্ধি আমার শব্দকোষ দেখলে কিছুটা আচঁ করা যায়। আগে দু লাইন লিখতে হাফায় পড়তাম। একই শব্দ বারবার লিখতাম, অনেক কিছু লিখতে চাইতাম কিন্তু লেখতে এসে হাত কাজ করত না। অনেকটা পেটে আসে কিন্তু মুখে না আসার মতো অবস্থা। Photo by  Szabo Viktor  on  Unsplash বলছিলাম ইউটিউবের সাক্সেস মান্ত্রা নিয়ে। ইউটিউবে সবাই সফল হতে চায়, কিন্তু হাতেগনা মাত্র কয়েকজন সফল হতে পারে। আমাকে এক ভাইয়া বলছিলেন ইউটিউবে সফল হওয়ার একটাই নিয়ম, যে ভিডিও তৈরি করো আর যেভাবেই করো না কেন। এই সুত্র বা নিয়ম কানেকানে বলার মতো নয়। আমরা সবাই জানি এর সম্পর্কে কিন্তু কেউ আমলে নিই না। ক্যাসি নেস্ট্যাস্ট কে  চেনেন? নাস ডেইলি ? একজন ইউটিউবে এবং একজন ফেসবুকে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সবচেয়ে সফল ভিডিও ক্রিয়েটর। এরাও সে একই সুত্র মেনে সফল হয়েছে। যেকোনো কুতুবের কাছে গেলেই তারা বুলি আওড়ায় কোয়ালিটি অভার কোয়ানটিটি। ভালো কন্টেন...

নিক নেমনামা

মঙ্গলবার রাত ৮ঃ৪৫ ২৮ জানুয়ারী ২০২০ অন্যসব দেশে কি হয় জানি না তবে আমাদের দেশে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাদের আসল নামের সাথে কোনো ব্যাঙ্গাত্মক নাম নেই। এই ব্যাঙ্গাত্মক ডাকনামের সংস্কৃতির উৎপত্তি কোথায় আমার জানা নেই। আর দুনিয়ায় এমন কিছু মানুষ যারা পথে-ঘাটে, জলে-স্থলে, শহরে-বন্দরে, বন্ধু-গফ যে কোনো জায়গায় ঐ নাম ছাড়া অন্য নামে ডাকে না। স্কুল-কলেজে এমন এক বন্ধু পাবেন যে সবার নামের আকিকা করে থাকে। কলেজে এই রোল আমিও প্লে করছি। অনেকের নাম আমার দেয়া। কিন্তু হুট করে একদিন আমার নামকরণ করা হলো মাইকেল। মুনতাসির থেকে মাইকেল। wtf… ভাই দিবি ভালো নাম দে। কি একটা ক্ষ্যাত নাম দিছিস (সেসময়কার ভাবনা)। কলেজে ক্রিকেট মোটামুটি খেলতাম। ঐসময় অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন ছিলো মাইকেল ক্লার্ক। উহু, সবার সামনে যখন বন্ধুরা এই নামে ডাকত, যখন অকওয়ার্ড ফিল করতাম তখন নিজেকে মিস্টার ক্যাপ্টেন ভেবে কুল থাকার চেষ্টা করতাম। পাগলের সুখ মনে মনে যাকে বলে আরকি। পোস্টারটি আমার করা জ্যাক স্প্যারো ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো পাইরেটস অব দ্য ক্যারাবীয়ান সিরিজ ও ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারোর অনেক বড় ফ্যান আমি। সেই সুব...

মরণঘাতি Dopamine

সোমবার ১০ঃ৪০ মিনিট ২৭ জানুয়ারী ২০২০ একেকজন মানুষের কাছে অর্জন একেক রকম। কেউ মেডেল ক্রেস্ট ট্রফি সার্টিফিকেটে নিজের অর্জন খুঁজে পায়, আবার কেউ অন্য কিছুতে। এই কিছু অনেক ধরনের হতে পারে। আমার বলার মতো ৩/৪টা ক্রেষ্ট আর ২/১টা সার্টিফিকেট আছে। তাও আবার সব আদিকালের পাওয়া। গত ৫/৬ বছরে আমার তেমন কোনো অর্জন নেই। আমার মতো অনেকেই আছেন যাদের নিজের অর্জন নিয়ে বলতে দুবার ভাবতে হয়। সমস্যা এই যে আমি বা তারা অলস, গর্দভ কিংবা নিষ্কর্মা তা কিন্তু না। সমস্যা হলো ডোপামিন। Photo by  bruce mars  on  Unsplash ডোপামিন হলো আমাদের শরীরের এক ধরনের কেমিক্যাল যা ব্রেইনে নিঃসরণে আমাদের সুখানুভূতি যোগায়। ডোপামিন সেই কেমিক্যাল যা জুয়া খেলা, মদ খাওয়া, স্মোকিং কিংবা যে কোনো ধরনের নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবনে আমার মস্তিকে নিঃসরণ হয়। আমাদের মনে সুখানুভূতি যোগায় এবং একই কাজ বারবার করতে উদ্বুদ্ধ করে। আমরা সকলেই  Instant Gratification পাওয়ার সুপ্ত বাসনা মনে লালন করি। এই Instant Gratification বা তাত্ক্ষণিক পরিতৃপ্তি ফেসবুক পোস্টের লাইক, বন্ধুর ম্যাসেজের রিপ্লে, প্রোফাইল পিকচারে কমেন্ট কিংব...

কেন বই পড়ি

রবিবার রাত ২ঃ০০ ২৬ জানুয়ারি প্র মথ চৌধুরির কাছে বই পড়া শখটা মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ শখ হলেও তিনি কাউকে শখ হিসেবে বই পড়তে পরামর্শ দিতেন না। কিন্তু আমি যতটুকু বই পড়ি শখের বসেই পড়ি। তবে আমাকে বই পড়তে যে মাহমুদুল শিখিয়েছে তা অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই। বন্ধু হিসেবে বিচার করবার আগে আমার বিবেক তার এই ঋণের কথা বারবার স্বরণ করিয়ে দেয়। যদ্দুর মনে পড়ে ওর কাছ থেকে নেওয়া রবিনসন ক্রুশ দিয়ে বই পড়া শুরু, তারপর পড়েছিলাম থ্রি কমরেড। এই বইয়ের কাছে জিন্দেগী না মিলেগী দোবারা কিংবা দিল চাহতা হে সিনেমার গল্প ফিকে পড়ে যায়। Photo by  Eliabe Costa  on  Unsplash প্রায় শুনতে পাওয়া যায় মানুষ বই কেনো পড়ে কেনো? ওয়ারেন বাফেট দিনে ৫ থেকে ৬ ঘন্টা ব্যয় করেন ৫টি পত্রিকা এবং অন্তত ৫০০ পৃষ্টার করপোরেট রিপোর্ট, ম্যাগাজিন পড়তে। তো সোজাসাপ্টা উত্তর জ্ঞানার্জনের জন্য। যে কারোরই বই পড়ার মুখ্য উদ্দেশ্য জ্ঞানার্জন। তবে যদি পাল্টা প্রশ্ন আসে যে সাহিত্য পড়ে কেনো? তাহলের এর উত্তরের জন্য দুবার ভাবতে হয়। সাধারনত লাজুক প্রকৃতির মানুষের বই বেশি পড়ে। আবার যারা একবার বই পড়ার মোহে ডুবে যায় তাদের নেশা হয়ে দাঁড়...

অন্তর্মুখী যাকে বলি Introvert

শনিবার দুপুর ২ঃ০০ ২৫ জানুয়ারী ২০২০ ফেসবুকে প্রতি দশটা পোস্টের মধ্যে একটা পোস্ট পাওয়া যাবে ইন্ট্রোভার্টদের নিয়ে। আমি ইন্ট্রোভার্ট আমার এই সমস্যা, আমি অন্তর্মুখী আমার সাথে ওটা হয়েছে। মার্ক জাকারবার্গ, এমা ওয়াটসন, ওয়ারেন বাফেট, এলন মাস্কও অন্তর্মুখী, তাদের জীবনেও অনেক সমস্যা আছে। আপনি বা আমি একা নই এই বেড়াজালে। আমার বন্ধুর সংখ্যা হাতে গুনে শেষ করতে পারব। আপনি একজন অন্তর্মুখী হলে আপনিও পারবেন। আমাকে ভিড়-ভাট্টা ভালো লাগে না, আপনি একজন অন্তর্মুখী হলে আপনারও একা থাকা পছন্দ হওয়ার কথা। তবে একজন অন্তর্মুখী হওয়ায় আমাকে ভাই ভেবে ভুল করবেন না। সব অন্তর্মুখী বা ইন্ট্রোভার্টেরা এক হয় না। অভিধানের ভাষায় কোনো এক অর্থ প্রকাশ করলেও অন্তর্মুখীর ব্যপকতা এর থেকে আরও অনেক বেশি। কিন্তু সামাজিক জীবনে সব অন্তর্মুখীদের মোটামুটি একই ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়। এই সমস্যাগুলো এক একজন একেক ভাবে সমাধান করেছে। আমিও একটু ভিন্ন পথে হেঁটে এর সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করব। বিখ্যাত হ্যারি পটার সিনেমার অভিনেত্রী এমা ওয়াটসন একজন ইন্ট্রোভার্ট। সে অন্যসব হলিউড সেলিব্রেটিদের মতো প...

একজন মিস্টার বিস্ট (MrBeast)

শুক্রবার সন্ধ্যা ৭ঃ২৫ ২৪ জানুয়ারী ২০২০ ইউটিউবের সাথে সখ্যতা কলেজে উঠার পর থেকে। আর ইউটিউবার হওয়ার সাধ জাগে ২০১৫ সালে। ২০১৬ সালে এই সাধকে আরেকটু গতি দেয় মোটিভেশন ফর ইউটিউবার শিরোনামের একটি ভিডিও। আসলে একটি না সম্ভবত ৫টি অথবা ৬টি ভিডিও ছিলো। কিছুদিন আগে  Colin and Samir   তাদের ব্রেকডাউন সিরিজে   MrBeast  কে নিয়ে কথা বলে। তাদের ধারনা হয়তো আগামী কয়েক বছরের মধ্যে মিস্টার বিস্ট হতে যাচ্ছে ইউটিউবের নেক্সট পিউডিপাই। এর পক্ষে যথেষ্ট কারণও দেখায় তারা। মিস্টার বিস্ট ইউটিউবে একজন রেকর্ড ব্রেকার ক্রিয়েটর। যতসব উদ্ভট রেকর্ড তাঁর ঝুলিতে। সাম্প্রতিক ২০ মিলিয়ন গাছের চারা রোপন করে সে। এটা একটা চ্যালেঞ্জ ছিলো আর রেকর্ডও বটে। আমি উপরে যে ইউটিউব মোটিভেশন ভিডিওর সম্পর্কে বললাম সে ভিডিও মিস্টার বিস্টেরই করা ছিলো। সেসময় তাঁর সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা ছিলো ৫০ হাজারের মতো। তাঁর বর্তমান সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা প্রায় ২৯ মিলিয়ন। ২০ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার পূর্ণ হওয়ায় সে টুইট করে উপরে তার স্ক্রিনশট দিয়েছি। আমি তাঁর পাচঁ লাখ থেকে ঊনত্রিশ মিলিয়নের জার্নিতে ছিলাম একজন সাবস্ক্রাইবা...

দ্য মোটরসাইকেল ডায়েরি

বৃহঃস্পতিবার সন্ধ্যা ৭ঃ৪৫ ২৩ জানুয়ারী ২০২০ আমি ডায়রি লিখা শুরু করি ২০১২ সাল থেকে। এর মাঝে অনেকবার বাদ দিছি আবার শুরু করছি। ২০১৫ তে নিয়মিত লিখতাম। কার প্রভাবে ডায়রি লিখা শুরু করি তা সঠিক আমার মনে নেই। কিছুদিন আগে আনা ফ্রাঙ্কের ডায়েরী পড়েছি। পুরোটা পড়া হয়নি, ধীরে ধীরে পড়ছি। মাঝে অনেকদিন ডায়েরী লিখি নাই। দুই তিন বছর তো হবেই। মালায়ালাম সিনেমা  Neelakasham Pachakadal Chuvanna Bhoomi   তে দুলক্বার সালমানকে ডায়েরী লিখতে দেখে আবার ইচ্ছে জাগে লিখবার। সিনেমাটি আরেক মাস্টারপিস  The Motorcycle Diaries   থেকে অনুপ্রাণিত। দ্য মোটর সাইকেল ডায়রী সিনেমাটি ২৩ বছর বয়সী ডাক্তারি পড়ুয়া আর্নেস্টো চে গেভারার পড়াশুনার শেষ বর্ষে এসে তাঁর বন্ধু আলবার্টো গ্রানাডোকে সাথে নিয়ে মোটরসাইকেলে চড়ে পুরো লাতিন আমেরিকার চষে বেড়ানোর গল্প। আজকের দিনে স্কুল কলেজ পড়ুয়ারা যার ছবিওয়ালা ব্যাগ কাঁধে নিয়ে, টিশার্ট গায়ে দিয়ে, মাথায় কালো ক্যাপ চাপিয়ে নিজেকে কুল ডুডের ভাবে চলাফেরা করে সেই বিপ্লবি নেতা চে আর্নেস্তা গেভারার লিখা ভ্রমণ ডায়েরী অবলম্বনে নির্মিত হয়েছিলো স্প্যানিশ ভাষায় এই অমর স...

বন্ধু ও বন্ধুত্ব

বুধবার সকাল ৭ঃ৫০ ২২ জানুয়ারী ২০২০ বিখ্যাত বিজ্ঞানী আইস্টাইন একবার বলেছিলেন, আমাদের রহস্যময়তার পরীক্ষণে প্রাপ্ত সবচেয়ে সৌন্দর্যময় জিনিসগুলো হলো শিল্প, বিজ্ঞান এবং বন্ধুত্ব। কিছুদিন আগে মারাত্মক রকমের একটা স্লো সিনেমা দেখেছিলাম থার্ড স্টার নামে। সিনেমার গল্প ছিলো চার বন্ধুর ট্রাভেলিং নিয়ে। যাদের একজন আমার প্রিয় অভিনেতা বেনেডিক্ট ক্যাম্বারব্যাচ। বন্ধু ও বন্ধুত্বকে মৃত্যুশয়ী বেনেডিক্ট এর শেষ ইচ্ছা পূরণের মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছিলো। পরিচালক কতটা সফল হয়েছে আমার জানা নেই। তবে আজ ফেসবুকে  স্ক্রলিং করতে গিয়ে একটি ভিডিওতে চোখ আটকে গেলো। উপরের ছবিটি থার্ড স্টার সিনেমার নয় তবে সত্যিই বাস্তবে এমন ঘটেছে। শারীরিক প্রতিবন্ধি বন্ধুকে ছেড়ে ইউরোপ ভ্রমণে যাবে না বলে তাকে ঘাড়ে নিয়ে পুরো ইউরোপ ঘুরে বেড়িয়েছে। যেখানে হুইল চেয়ার নেওয়া যাবে না সেসব জায়গায় তাকে সহজে বহন করার জন্য একটি স্পেশাল কাস্টম ব্যাকপ্যাক তৈরি করে তারা। বন্ধুকে ঘাড়ে নিয়ে হেঁটেছে মাইলের পর মাইল, চড়েছে ট্রেন বাস ও বিমানে। হাইকিং করেছে, উঠেছে দ্যা গ্রেট ওয়াল চায়নায়। এই সৌভাগ্যবান মানুষটির নাম কেভিন চ্যান্ডলার। ...

কন্টেন্ট আইডিয়া

সোমবার  সন্ধ্যা ৭ঃ৩০ ২০ জানুয়ারী ২০২০ আজ রাতে কোনো রুপকথা নেই। আজ আমার লেখার কোনো টপিক নেই। ডিজিটাল মিডিয়ামে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে কাজ শুরু করার পর প্রথম প্রতিবন্ধকতা ছিলো টপিক খুঁজে বের করা আর তা নিয়ে কাজ করা। সমস্যা হলো বসে খেলে রাজার ধনও ফুরিয়ে যায়। তেমনি সবসময় কন্টেন্টের পেরা মাথায় না নিয়ে ঘুরলে একটা সময় গিয়ে আইডিয়া আর মাথায় আসে না। যা আসে তা পাব্লিক খাবে কি না তা নিয়েও একটা সংশয় থেকে যায়।  Source:  Medium আবার ঠিকভাবে রিসার্চ না করে কাজে নামলে মহা ঝামেলায় পড়তে হয়। এজন্য যেকোনো সফল ইউটিউবার কিংবা ব্লগারের বিগিনারদের প্রতি পরামর্শ থাকে অন্তত ১০০টি আইডিয়া নিয়ে কন্টেন্ট মেকিং শুরু করা। তা না হলে একটা সময় গিয়ে দেখা যায় মাসের পর মাস চলে যায় কিন্তু কোনো আইডিয়া মাথায় আসে না। যার ফলে যথাসময়ে আইডিয়া বের করার প্রেসারে লো কোয়ালিটি কন্টেন্ট দেওয়া শুরু হয় আর এই ধারা সহজে থামানো মুশকিল হয়ে পড়ে। তবে আমার ব্লগ লিখার কোনো প্লান নেই, কোনো শিডিউল নেই, কোনো নির্দিষ্ট নিশ নেই। আমার শুরুটা করেছি এই লক্ষ্য নিয়ে যে প্রতিদিন একটা করে অন্তত ২০০ শব্দের লেখা পোস...

বেয়াদব ছেলে সাকিব

রবিবার সকাল ৬ঃ৪৫ ১৯ জানুয়ারী ২০২০ আমার ফেসবুক প্রফাইলের ফিচার ফটোতে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের স্যালুটের ছবিটা দেওয়া আছে। প্রফাইলের শুরুতে ছবিটা রাখার বিশেষ কোনো কারণ নেই। দেশের ন্যাশনাল হিরো তথা জাতীয় বীরের ছবি টাঙিয়ে রাখায় একটা কুলনেস কাজ করে এমনটাও না। কারণ সাকিবের ব্যক্তিগত কিংবা দেশের হয়ে অনেক অর্জন থাকলেও বেশিরভাগ মানুষের কাছে সে একটা আস্ত বেয়াদব ছেলে। এই বেয়াদবের ছবি নিজে প্রফাইলে টাঙিয়ে আমিও বেয়াদবের তকমা নিশ্চয় নিজের নামের পাশে লেখাতে যাব না। আর সাকিব যে বেয়াদব তার সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত। Source:  The Daily Star সাকিবের সাথে আমি কখনো মিশিনি, কথা বলিনি, দেখাও করিনি। তাঁর যতটুকু দর্শন ঐ টিভির পর্দাতেই। তবুও তাকে আমি বেয়াদব মনে করে। এবং তাঁর বেয়াদবিকে সমর্থন করি। সাকিবের মতো বাকি দশটা ন্য্যাশনাল হিরোও যাতে বেয়াদপ হয় এমনটা চাই। আচ্ছা, হুট করে পল্টি মারলাম কেন ভেবে চিন্তিত হচ্ছেন? দাঁড়ান বেপারটা সহজ করে দিই। গতকাল ১৮ জানুয়ারী  TedxGulshan এর ইভেন্টে গিয়েছিলাম অংশগ্রাহক হিসেবে। যার কারণে গতকাল ব্লগ পোস্ট করতে পারিনি, যেকারণে দুঃখিত। সেখানে ডঃ ইয়াসমিন হক, ...

কয়েকটি মৃত্যু

শুক্রবার সকাল ১১ঃ০০ ১৭ জানুয়ারি ২০২০ জহির রায়হানের নাম শুনলে হাজার বছর ধরে উপন্যাসের পর চোখে ভেসে আসে বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, রক্ত-লাশ আর সাহিত্যের সম্ভার। তাঁর লেখা কয়েকটি মৃত্যু উপন্যাসটি সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পড়তে শুরু করলেও শেষ অন্য কোথায় গিয়ে ঠেকেছিলো। শিরোনাম দেখে ভেবেছিলাম পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বর্বরতা আর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বেওয়ারিশ লাশ নিয়ে লেখা থাকবে। কিন্তু প্রেক্ষাপট মুক্তিযুদ্ধের সময়কার হলেও এমন কিছু বলা হয় নাই উপন্যাসটিতে। Source: Google কলেজে চিশতী আমার ভালো বন্ধু ছিলো। '১৫ সালের অক্টোবর সেমিস্টার ব্রেকে আমাদের ছেড়ে চলে যায়। ওর মৃত্যুতে খুব একটা ধাক্কা লাগে নাই আমার। তবে ঐদিন দেখেছিলাম মাত্র ২০ বছরের একটা ছেলের জন্য মানুষের হাহাকার। হুহু করে কাঁদছিল বন্ধুরা, স্যারেরা সহ পুরো গ্রামবাসী। মৃত্যু সুন্দর, মৃত্যু সত্য, মৃত্যু সার্বজনীন, মৃত্যুই চিরন্তন। একদিন সবাইকে সব ছেড়ে চলে যেতে হবে। মৃত্যুকে ঘিরে আমাদের দুনিয়াবি যতসব আয়োজন। আর এই মৃত্যুই আমাদের বেঁচে থাকার শক্তি যোগায়। মৃত্যুকে নিয়ে জ্ঞানীগুনীরা অনেক কথা বলে গেছেন। আমার কাছে সবচেয়ে প্...

ভয়ই শক্তি

বৃহঃস্পতিবার দুপুর ১২ঃ৩০ ১৬ জানুয়ারি ২০২০ কার না ভয় লাগে বলুন।  Age of Empire গেমে ব্যাকগ্রাউন্ডে Fear is Power কথা শুনে বড় হওয়া। বড় হওয়ার সাথে সাথে নানান রকম ভয়ের সাথে সাক্ষাত বাড়তে থাকা। ভয় যেন না লাগে সেটারও ভয় লাগা। হারানোর ভয়, পরীক্ষায় রেজাল্ট খারাপ করার ভয়, লোকে কি ভাববে তার ভয় তবে সবচেয়ে সাংঘাতিক ভয় হলো মৃত্যু ভয়। খুব কম মানুষ আছে যাদের উচ্চতা কিংবা পানি থেকে ভয় হয়। যাদের আবার কোপিং এবিলিটি কম তাদের মানুষ থেকে ভয় লাগে। সাইকোলজির ভাষায় যাকে এন্থোপফোবিয়া বলে। Source: Google ভয়কে পুঁজি করে যত সব সম্রাজ্য গড়ে উঠেছে। তবে ক্ষমতা হারানোর ভয় সবার থাকে। বখতিয়ারের ঘোড়ার খুরের শব্দের ভয়ে যেখানে কোনো এক রাজা তার রাজ্য ছেড়ে পালিয়েছিলো। হিংস্র পশুদের ভয় পাওয়া সেখানে স্বাভাবিক। ছোট শিশুরা যেমন মা থেকে দূরে যাওয়া ভয়ে আচ্ছন্ন থাকে ঠিক তেমনি বৃদ্ধ বয়সে সে শিশুই একাকীত্বে ভয়েও ভোগে। আল্লাহ-ভগবানের ভয়ে মানুষ মসজিদ-মন্দিরে যায়। কেউ পাপের ভয়ে কেউ মৃত্যু ভয়ে। প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার ভয় সিংহভাগ মানুষের মাঝে প্রকট। হোক তা নিজের কিংবা অন্যের। অনেকের কাছে হাস্যকর হলেও মেয়েদের বড় ভয় মাকড়স...

Nothing is the Hardest Things to Do

বুধবার বিকেল ৩ঃ০০ ১৫ জানুয়ারী ২০২০ দুনিয়ার সবচেয়ে কঠিন কাজ কিছু না করা। তারচেয়েও কঠিন কাজ কিছু করতে চাওয়ার তীব্র ইচ্ছা থাকা স্বত্বেও তা করতে না পারা। বেপারটা অনেকটা ঘুমের ঘোরে বোবা ধরার মতো। এই জিনিসটা একটা মানুষকে ভিতরে ভিতরে ঘুণে ধরার মতো খেয়ে নেয়। Source: Google Image অস্কার ওয়াইল্ড একবার বলেছিলেন,  “To do nothing at all is the most difficult thing in the world, the most difficult and the most intellectual.”   মনস্তাত্বিকভাবে কথাটার ব্যপকতা এতো যে অল্প ভাষায় ব্যাখ্যা করা সম্ভব না। বলতে গেলে আরও অনেকগুলো বিষয় চলে আসে যেগুলো ব্যাখ্যা  না   করে এড়িয়ে যাওয়াও আবার ঠিক হবে না। তাই একটু ছোট করে সহজ ভাষায় বলা যায় " Nothing is the Hardest Things To Do." যে কথাটা বিখ্যাত টিভি সিরিজ গেম অব থ্রোন্সে টিরিয়ন ল্যানিস্টার ড্যানেরিস টারগেরিয়ানকে বলেছিলো। অনেক সময় হাত গুটে বসে থাকা কঠিন হয়ে যায়। উদাহরণ দিয়ে বললে, ধরুন আপনার বন্ধু কোথাও মারামারি করছে আপনার সেখানে যাওয়া খুব জরুরি কারণ সে আপনার বেস্ট ফ্রেন্ড, কিন্তু সেখানে গেলে আপনাকে নির্ঘাত মাইর খেয়ে আসতে হবে, মাথাও ফেট...

Decision Making বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ

মঙ্গলবার দুপুর ১২ঃ৩০ ১৪ জানুয়ারী ২০২০ Decision বা সিদ্ধান্ত শব্দটা ছোট হলেও আমাদের জীবনে ভাইটাল রোল প্লে করে। ক্রিয়াপদের সব কিছুই নির্ভর করে সিদ্ধান্তের উপর।  Decision এর উপর নির্ভর করে আমাদের যে কোনো কার্য সম্পাদন হয়। আসলে দুনিয়াতে কোনো ডিসিশন নিখুঁত হয় না। কোন সিদ্ধান্ত পক্ষে কাজ করে কোনোটা করে না, এই যা। কথাটা আমার না  Gary Vaynerchuk   এর।  আমরা আসলে কেউ জানি না আমাদের সাথে আগামীতে কি ঘটতে যাচ্ছে। গেরী ভেনারচাক এর মতে, হয়তো আমি কোনো একটা বিজনেস করা সিদ্ধান্ত নিলাম। লক্ষ্য নির্ধারণ করে সে হিসেবে কাজ করে সুপার সাক্সেসফুল হয়েও গেলাম। কিন্তু কোনো একটা মিটিংএ যেতে কার এক্সিডেন্ট অথবা বিমান ক্রাশে মারা গেলাম বা কোনো কারণে বিশাল লসের মুখে আমাকে দেউলিয়া হয়ে যেতে হলো। আরেকদিকে, আমার এই বিজনেস করার ডিসিশন ড্রপ করে অন্য ছোটখাট কোনো জব করতেছি। জব শুরু দিকে ভালো না লাগলেও ধীরে ধীরে ভালো লাগা শুরু করছে আর আমি এটা নিয়ে সুখেও আছি, দেখা গেলো ৫০ বছর পর নাতিপুতিদের বিজনেস অপরচুনেটি ছেড়ে দেওয়ার গল্প শুনাচ্ছি। তো আপাতদৃষ্টিতে বিজনেসের আইডিয়া জোস, আমি সাক্সেস...

ঘুমবাবুর ঘুম

সোমবার দুপুর ২ঃ৩০ ১৩ জানুয়ারী ২০২০ Photo by  Chiến Phạm  on  Unsplash আমার ভার্সিটিতে একজন বন্ধু আছে যাকে সবাই ঘুমন্তবাবু বলে ডাকে। চন্দ্রবিন্দু ব্যান্ডের ঘুমঘুম ক্লাসরুম গানের মতো। প্রতিটা ক্লাসে সে ঘুমায়, আর চেহারাতেও সবসময় একটা ঘুম ঘুম ভাব লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু ও আমার মতো কখনও টানা ১৮ ঘন্টা ঘুমিয়েছিলো কিনা জানি না। আমি কি পরিমাণ ঘুমে আসক্ত এটা যারা আমার সাথে থাকে তারা ছাড়া আর কেউ জানে না। আমার ঘুমের গল্প কেউ শুনলেও বিশ্বাস করতে চায় না। ছুটির দিন গুলোতে আমি কবে ঘুমাই কবে উঠি কেউ জানে না। অনেক সময় ক্লাস অথবা কাজকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েও ঘুমিয়ে পড়ি। ঘুমের কাছে কেউ পাত্তা পায় না।  এই যেমন সকালে ব্লগ লিখতাম সেটা এখন ঘুমের জন্য দুপুরে লিখছি। ঘুম ক্যারিয়ারের জন্য একটা বড়সড় অশনি সংকেত। এ ক্যারিয়ার যে কোনো ধরনের হতে পারে। ঠিকমতো না ঘুমানোও আবার স্বাস্থ্যের জন্য ঠিক না। ঘুম নিয়ে আমার তেমন জ্ঞান নেই তবে এ ঘুমের জন্য আমাকে অনেক কিছু ভোগ করতে হয়েছে, হচ্ছে এবং ভবিষতেও হবে এটা আমি জানি। মরণের পর অনন্ত কালের ঘুমটাও সুখের হবে না যদি না পূণ্যের কিছু করি...

ইয়েস থিওরি

রবিবার ভোর ৬ঃ২০ ১২ জানুয়ারী ২০২০ স্বপ্ন দেখাটা যতটা সহজ স্বপ্নের পথে হাটা ততটা সহজ না। একটা সুন্দর সহজ নিরাপদ ও প্রেডিক্টেবল জীবন ছেড়ে কোনো অজানা স্বপ্নের দিকে আগানো, যা জানিও না আদো কখনো অর্জন করা সম্ভব হবে কি না। আর হলেও তা কতটা সুখকর হবে তাও কেউ বলতে পারে না। স্রোতের বিপরীতের এই কাজ করা সহজ কথা নয়। এর জন্য শতশত রাত দুঃস্বপ্নে কাটিয়ে সাহস যোগাতে হয়। সাহস যোগাতে হয় নিজের ভয়টাকে দূর করতে, সাহস যোগাতে হয় নিজের বিশ্বাসটা পরিবারের বাকিসব সদস্যদের সামনে তুলে ধরতে। বেশিরভাগ মানুষ এই সাহস যোগানোর ধাপে এসে হার মেনে নেয়। বাকিরা হাটু গেড়ে বসে পরিবার-পরিজনকে রাজি করাতে। এই যেমন ধরুন, আমি ভার্সিটির ২য় সেমিস্টার ড্রপ দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ফ্যামিলির কাউকে রাজি করাতে পারি নাই। বেস্ট ফ্রেন্ড বলে পাগল নাকি, ডিয়ার নিয়ার বলে এই পাগলামি করিও না। বড় ভাইয়েরা পরামর্শ দেয় ভাই খারাপ রেজাট আসুক সেমিস্টার যেন ড্রপ না দিই। হাজার চেষ্টা করেও এই ছোট্ট রিস্ক টুকু নিতে ওয়ান সিঙ্গেল পার্সনকে রাজি করাতে পারি নাই। এমনকি কারও থেকে পজেটিভ রিস্পন্সও পাই নাই। কেন সেমিস্টার ড্রপ দেওয়ার গল্প না হয় অন্যদিন করব। ...

আনসাং হিরো

Photo by  Matt Jones  on  Unsplash শনিবার ১ জানুয়ারি ২০২০ সকাল ৭ঃ০০ বার্নার লি যদি ইন্টারনেট আবিষ্কার করে পুরো দুনিয়াকে হাতের মুঠোয় আনে তাহলে বলা বাহুল্য যে আঙ্গুলের ডগায় এনেছিলো মার্ক জাকারবার্গ। হার্ভার্ডের ডোমরুমে বসে কোড করা  হট অর নট   রেটিং সাইট থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের ফেসবুক নামক সোসাল নেটওয়ার্ক ওয়েবসাইট দাঁড় করানোর শুরু দিনগুলো মোটেও সুখকর ছিলো না। সেসময় যদিও ফেসবুকের ভবিষ্যৎ দেখছিলেন জাকারবার্গ তবে তার কাছে না ছিলো পর্যাপ্ত অর্থ, না নেটওয়ার্ক। এজন্য সাহায্য নিয়েছিলেন তারই বন্ধু এডুয়ার্ডো স্যাভেরিনের কাছে। ইনভেস্টর ও ব্যবসা-বাণিজ্য বিষয়ে ভাল দখল ছিল স্যাভেরিনের। আজকে মার্ক জাকারবার্গ যেখানে দাড়িয়েছে আছে সেখানে আসার ক্ষেত্রে অনেকটা অবদান তার বন্ধু ও পার্টনার স্যাভেরিনের। তবে তাকে তিনি তার প্রাপ্য সম্মান ও সম্মানী কোনোটাই দেন নি। স্টিভ ওয়াজনিয়াকের বেপারেও এমনি কিছু ঘটেছিলো। অ্যাপল কম্পিউটারে স্টিভ জবস ছিলেন সব সময় হাইলাইট ফেস। নিঃসন্দেহে জবস বিংশ শতাব্দীর অসাধারণ প্রতিভাবান সফল উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবক। তবে অ্যাপলে ওয়াজনিয়াকের অবদা...

যদ্যপি আমার গুরু

আচ্ছা, ১০ জানুয়ারী ২০২০ ভোর ৫ঃ০০ খুব ভালো ছাত্র আমি কখনই ছিলাম না তবুও প্রাইমেরী ও হাই স্কুল দুই বিদ্যাপীঠেই শ্রদ্ধেয়ভাজন কিছু শিক্ষকের সান্নিধ্যের আসার সুযোগ হয়েছিলো। তারাও আমাকে স্নেহ করতেন। এতো বছর পরেও দেখা হলে আমাকে যেখানে তাদের প্রতি সম্মান দেখানোর কথা সেখানে তারা নিজে এসে আমার, আমার বাবা মা, ভাই বোনের খোঁজ নেন। Photographer:  Dan Dimmock আসলে একজন সত্যিকারের শিক্ষক/শিক্ষিকা তাঁর শিক্ষাদান শুধু পাঠ্য বইয়ের মাঝেই সীমাবদ্ধ রাখেন না। তখন ক্লাস টেনে, স্কুলের কম্পিউটারে এন্টিনা লাগিয়ে শফিউল স্যার ক্রিকেট খেলা দেখতেন। চরম ভক্ত ছিলেন ক্রিকেটের। আমার এখনো স্পষ্ট মনে আছে, বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়াটসনে ১৪ ছয়ে সেঞ্চুরি স্কুলেই দেখছিলাম। স্যারের কাছ থেকে কোনামি ২০০৯ ফুটবল গেম পেনড্রাইভে করে এনে বাসায় খেলতাম। স্যারের সাথে আবার রীতিমত রেশারেশিও চলত কে ভালো খেলতে পারা নিয়ে। এদিকে মুরাদ স্যার, আলমগীর স্যার সব সময় চোখে চোখে রাখতেন যে ঠিকভাবে পড়াশুনা করছি কিনা। এইচএসসির সময় মুরাদ স্যার আমার প্রতি যে ভালোবাসা দেখিয়েছিলেন তা কখনো ভোলা সম্ভব না। প্রাইভেট পড়াতাম রুবেল স্যারের কাছে। মাঝ...