Skip to main content

ইউটিউবে সফলতার মন্ত্র

বুধবার
বিকেল ৪ঃ০০
২৯ জানুয়ারী ২০২০

আজ ১৮তম ব্লগ পোস্ট লিখছি। আমার লেখাগুলো কতটা সাবলীল জানি না, তবে আমি আমার এক বছর আগের লেখা আর আজকের লেখার মধ্যে বিস্তর ফারাক দেখতে পাই। আমি কতটুকু নিজের উন্নতি করেছি তার উপলব্ধি আমার শব্দকোষ দেখলে কিছুটা আচঁ করা যায়। আগে দু লাইন লিখতে হাফায় পড়তাম। একই শব্দ বারবার লিখতাম, অনেক কিছু লিখতে চাইতাম কিন্তু লেখতে এসে হাত কাজ করত না। অনেকটা পেটে আসে কিন্তু মুখে না আসার মতো অবস্থা।

Photo by Szabo Viktor on Unsplash
বলছিলাম ইউটিউবের সাক্সেস মান্ত্রা নিয়ে। ইউটিউবে সবাই সফল হতে চায়, কিন্তু হাতেগনা মাত্র কয়েকজন সফল হতে পারে। আমাকে এক ভাইয়া বলছিলেন ইউটিউবে সফল হওয়ার একটাই নিয়ম, যে ভিডিও তৈরি করো আর যেভাবেই করো না কেন। এই সুত্র বা নিয়ম কানেকানে বলার মতো নয়। আমরা সবাই জানি এর সম্পর্কে কিন্তু কেউ আমলে নিই না। ক্যাসি নেস্ট্যাস্টকে  চেনেন? নাস ডেইলি? একজন ইউটিউবে এবং একজন ফেসবুকে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সবচেয়ে সফল ভিডিও ক্রিয়েটর। এরাও সে একই সুত্র মেনে সফল হয়েছে।

যেকোনো কুতুবের কাছে গেলেই তারা বুলি আওড়ায় কোয়ালিটি অভার কোয়ানটিটি। ভালো কন্টেন্ট মেক করেন, বেশি না। মাসে একটা করলেও ভালো কন্টেন্ট মেক করেন। পরামর্শ তারা যথার্থ দেন, এতে আমার দ্বিমত নেই। কিন্তু আমার সমস্যাটা অন্যখানে। কি তা পরে বলছি, তার আগে দুটো উদাহরণ দিয়ে নিই। আচ্ছা, এক ২০/২২ বছর বয়সী যুবকের মনে সাধ জাগল সে নিজের মাশল বাড়াবে, সিক্স প্যাক তৈরি করবে। প্রথমদিন জিমে গিয়ে ৮ ঘন্টা কসরত করল, কিন্তু কোনো ফল পেলো না। পরের দিন আবার আট ঘন্টা টানা কসরত করল তাও কোনো ফল দেখতে পেলো না। এভাবে টানা ৭দিনে ৫৬ঘন্টা কসরত করেও যখন ফল পেলো না তখন সে হাল ছেড়ে দিলো। ঘটনাটি বাস্তব, আপনি আপনার আশেপাশে খোঁজ নিয়ে দেখুন বেশিরভাগ মানুষ সর্বোচ্চ এক সপ্তাহ জিম করে ছেড়ে দেয়।

আমি এই ১৮তম ব্লগ লিখবার আগে কোরাতে এবং ডকে টানা একশত দিন লিখেছি। হ্যাঁ টানা তিন মাস দশ দিন। এর আগে ফোনে ছোট ছোট নোট লিখে চেষ্টা করতাম, ডায়েরিতে অল্প-সল্প লিখতাম। কোরায় আমার শুরুর সময়ের লিখা পড়লে বুঝতে পারবেন আমার লেখা কতটা জঘন্য ছিলো। শুরুটা যে কোরায় হয়েছে তাও না, এর আগেও ব্লগ লিখতাম তবে এমন বিষয়ভিত্তিক নয়। আমার যতটুকু উন্নতি হয়েছে তা সারাদিন লিখালিখি করে হয় নাই। অল্প-অল্প করে কিন্তু নিয়মিত চর্চার ফলে তা হয়েছে। বলছিলাম কুতুবদের পরামর্শ নিয়ে, তারা সব সময় বলে কোয়ালিটি মেনে ভিডিও করতে। কিন্তু তারা একথা বলে না কিভাবে কোয়ালিটি বাড়ানো যায়। Start is the Hardest Part শিরোনামে অসামান্য সুন্দর একটা কবিটা পড়েছিলাম। সবারই প্রথম ভিডিও ভয়ঙ্কর রকমের খারাপ হয়, পাবলো পিকাসেরও প্রথম আঁকানো ছবিটা দেখবার মতো ছিলো না, শহীদুল ইসলামের তোলা শুরুদিকের ছবিও অতোটা সুন্দর হত না। তারা ধীরে ধীরে কিন্তু নিয়মিত চর্চা করে তা অসামান্য সুন্দর করেছে। এইজন্যই বলা হয় প্র্যাকটিস মেকস এ ম্যান পারফেক্ট। এই কোয়ালিটি প্রাকটিসের ফল, যা একদিনে আসবে না। অসংখ্যক ভুল্ভাব জঘন্য ভিডিও করার পর আসবে। আগে আপনার ভিডিও করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। এজন্য আপনার কোয়ান্টিটি দরকার। যখন আপনি ভিডিও করতে শিখে যাবে তখন কোয়ালিটির দিকে আগান। দেখবেন কিভাবে তড়তড়িয়ে সব কোয়ালিটিফুল কন্টেন্ট তৈরি করছেন।


উপরে বলেছিলাম ক্যাসি নেস্ট্যাট ও নাস ডেইলির কথা। ক্যাসি নেস্ট্যাস্ট টানা দু বছরের বেশি প্রতিদিন ভিডিও শ্যুট করে, ইডিট করে ইউটিউবে আপলোড দিত। নাস ডেইলির "দ্যাটস ওয়ান মিনিট সি ইউ টুমোরো" প্রতিদিন টানা এক বছর বলে গেছে। নাস ডেইলির শুরুর সময়কার ভিডিও ছিলো ভয়াবহ রকমের বাজে, সাউন্ড কোয়ালিটি ছিলো জঘন্য। এখকার নাস ডেইলির সাথে সে সময়কার নাস ডেইলির আসমান জমিনের তফাৎ। আপনি যদি নাস ডেইলির মতো ভিডিও করতে চান তবে আজকের দিনের নাস ডেইলির সাথে তুলনা না করে শুরু সময়কার সাথে করুন। আর ধীরে ধীরে নিজেকে উন্নত করার চেষ্টায় থাকুন।

ইউটিউবে সফলতার মন্ত্র কথায় কথায় ইতিমধ্যে বলে ফেলেছি। যারা ধরতে পারেন নাই তাদের জন্য আরেকটু খোলাসা করি বলি। কিন্তু তার আগে আরেকটি গল্প বলে নিই, আচ্ছা আমরা তো সবাই প্রতিদিন দাঁত মাজি। কেন মাজি জানেন? কারণ দাঁত যেন ভালো থাকে। দুই দিন না মাজলে তো তেমন কোনো সমস্যা হয় না। পরেরদিন ঠিকভাবে মাজলে ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু সপ্তাহ কিংবা মাস খানেক না মাজলে ডেন্টিস্টের কাছে যেতে হয়। দাঁতের চিকিৎসা করতে হয়। আর এর বেশি না মাজলে দাঁত পড়ে যায়, নষ্ট হয়ে যায়। ইউটিউব হলো দাঁত আর এর  সফলতার মন্ত্র হলো দাঁত মাজা। নিয়মিত কাজ করুন ইউটিউবে সফলতা আসতে বেশিদিন লাগবে না। ছেড়ে দিবেন সব শেষ হয়ে যাবে। করবেন ছাড়বেন করলে ডেন্টিস্টের কাছে যেতে হবে। আপনার ভিডিও যতই জঘন্য হোক না কেনো নিয়মিত কাজ করলে তা ধীরে ধীরে উন্নত হতে থাকবে। প্র্যাকটিস করতে থাকুন পারফেক্ট হতে আপনি বাধ্য। এটাই প্রকৃতির নিয়ম, প্রকৃতি এভাবেই চলে।

Comments

Popular posts from this blog

প্রথম ইউটিউব ভিডিও যেমন হওয়া উচিৎ

একজন ইউটিউবারে প্রথম ভিডিও স্পেশাল হওয়া উচিত। চাকুরির প্রথমদিন স্পেশাল হওয়া উচিত। প্রিয়তমার প্রথম সাক্ষাত স্পেশাল হওয়া উচিত। প্রথম বেতনে কেনা জিনিসটিও স্পেশাল হওয়া উচিত। আসলে আমাদের প্রথম যে কোনো কিছুই স্পেশাল বা বিশেষ হওয়া উচিত কারণ এটি প্রথম এখান থেকেই শুরু… ব্রিটিশ আমেরিকান মোটিভেশনাল স্পিকার ও লেখক সাইমন সিনেকের " Start With Why "  বইটি পড়েছিলাম। সেখানে সাইমন সিনেক স্টিভ জবসের এ্যপল থেকে শুরু করে রাইট ভ্রাতাদ্বয়ের বিমান উড়ানো নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। তিনি W-H-W অর্থ্যাত What How Why ফর্মুলা বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেছিলেন যে দুনিয়ার যত কোম্পানি/স্টার্টাপ বা বিজনেস সেরা ও সফল হয়েছে তাদের মূলে ছিলো  'কেন'।  প্রোডাক্ট বা  কি  সবাই বিক্রি করে, মোটামুটি সবারই   কিভাবে  বা বিজনেস স্ট্র্যাটেজি একই কিন্তু যারা সফল হয়েছে তাদের সবার  কেন-টা   ভিন্ন ছিলো। ইউটিউবে একটি ভিডিও আপলোড করে সফলতা পাওয়া আষাঢের গল্পের মতো শোনায়। ইউটিউবে সফলতার একমাত্র পথ কন্সিসট্যান্সি বা ধারাবাহিকতা। আপনি দিনক্ষণ মেনে ভিডিও আপলোড করে যান সফলতা আসবে। অনেকে একটি দুইটি তিনটি ভিডিও ...

নিক নেমনামা

মঙ্গলবার রাত ৮ঃ৪৫ ২৮ জানুয়ারী ২০২০ অন্যসব দেশে কি হয় জানি না তবে আমাদের দেশে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাদের আসল নামের সাথে কোনো ব্যাঙ্গাত্মক নাম নেই। এই ব্যাঙ্গাত্মক ডাকনামের সংস্কৃতির উৎপত্তি কোথায় আমার জানা নেই। আর দুনিয়ায় এমন কিছু মানুষ যারা পথে-ঘাটে, জলে-স্থলে, শহরে-বন্দরে, বন্ধু-গফ যে কোনো জায়গায় ঐ নাম ছাড়া অন্য নামে ডাকে না। স্কুল-কলেজে এমন এক বন্ধু পাবেন যে সবার নামের আকিকা করে থাকে। কলেজে এই রোল আমিও প্লে করছি। অনেকের নাম আমার দেয়া। কিন্তু হুট করে একদিন আমার নামকরণ করা হলো মাইকেল। মুনতাসির থেকে মাইকেল। wtf… ভাই দিবি ভালো নাম দে। কি একটা ক্ষ্যাত নাম দিছিস (সেসময়কার ভাবনা)। কলেজে ক্রিকেট মোটামুটি খেলতাম। ঐসময় অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন ছিলো মাইকেল ক্লার্ক। উহু, সবার সামনে যখন বন্ধুরা এই নামে ডাকত, যখন অকওয়ার্ড ফিল করতাম তখন নিজেকে মিস্টার ক্যাপ্টেন ভেবে কুল থাকার চেষ্টা করতাম। পাগলের সুখ মনে মনে যাকে বলে আরকি। পোস্টারটি আমার করা জ্যাক স্প্যারো ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো পাইরেটস অব দ্য ক্যারাবীয়ান সিরিজ ও ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারোর অনেক বড় ফ্যান আমি। সেই সুব...

কেন বই পড়ি

রবিবার রাত ২ঃ০০ ২৬ জানুয়ারি প্র মথ চৌধুরির কাছে বই পড়া শখটা মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ শখ হলেও তিনি কাউকে শখ হিসেবে বই পড়তে পরামর্শ দিতেন না। কিন্তু আমি যতটুকু বই পড়ি শখের বসেই পড়ি। তবে আমাকে বই পড়তে যে মাহমুদুল শিখিয়েছে তা অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই। বন্ধু হিসেবে বিচার করবার আগে আমার বিবেক তার এই ঋণের কথা বারবার স্বরণ করিয়ে দেয়। যদ্দুর মনে পড়ে ওর কাছ থেকে নেওয়া রবিনসন ক্রুশ দিয়ে বই পড়া শুরু, তারপর পড়েছিলাম থ্রি কমরেড। এই বইয়ের কাছে জিন্দেগী না মিলেগী দোবারা কিংবা দিল চাহতা হে সিনেমার গল্প ফিকে পড়ে যায়। Photo by  Eliabe Costa  on  Unsplash প্রায় শুনতে পাওয়া যায় মানুষ বই কেনো পড়ে কেনো? ওয়ারেন বাফেট দিনে ৫ থেকে ৬ ঘন্টা ব্যয় করেন ৫টি পত্রিকা এবং অন্তত ৫০০ পৃষ্টার করপোরেট রিপোর্ট, ম্যাগাজিন পড়তে। তো সোজাসাপ্টা উত্তর জ্ঞানার্জনের জন্য। যে কারোরই বই পড়ার মুখ্য উদ্দেশ্য জ্ঞানার্জন। তবে যদি পাল্টা প্রশ্ন আসে যে সাহিত্য পড়ে কেনো? তাহলের এর উত্তরের জন্য দুবার ভাবতে হয়। সাধারনত লাজুক প্রকৃতির মানুষের বই বেশি পড়ে। আবার যারা একবার বই পড়ার মোহে ডুবে যায় তাদের নেশা হয়ে দাঁড়...