Skip to main content

দ্য মোটরসাইকেল ডায়েরি

বৃহঃস্পতিবার
সন্ধ্যা ৭ঃ৪৫
২৩ জানুয়ারী ২০২০

আমি ডায়রি লিখা শুরু করি ২০১২ সাল থেকে। এর মাঝে অনেকবার বাদ দিছি আবার শুরু করছি। ২০১৫ তে নিয়মিত লিখতাম। কার প্রভাবে ডায়রি লিখা শুরু করি তা সঠিক আমার মনে নেই। কিছুদিন আগে আনা ফ্রাঙ্কের ডায়েরী পড়েছি। পুরোটা পড়া হয়নি, ধীরে ধীরে পড়ছি। মাঝে অনেকদিন ডায়েরী লিখি নাই। দুই তিন বছর তো হবেই। মালায়ালাম সিনেমা Neelakasham Pachakadal Chuvanna Bhoomi তে দুলক্বার সালমানকে ডায়েরী লিখতে দেখে আবার ইচ্ছে জাগে লিখবার।




সিনেমাটি আরেক মাস্টারপিস The Motorcycle Diaries থেকে অনুপ্রাণিত। দ্য মোটর সাইকেল ডায়রী সিনেমাটি ২৩ বছর বয়সী ডাক্তারি পড়ুয়া আর্নেস্টো চে গেভারার পড়াশুনার শেষ বর্ষে এসে তাঁর বন্ধু আলবার্টো গ্রানাডোকে সাথে নিয়ে মোটরসাইকেলে চড়ে পুরো লাতিন আমেরিকার চষে বেড়ানোর গল্প। আজকের দিনে স্কুল কলেজ পড়ুয়ারা যার ছবিওয়ালা ব্যাগ কাঁধে নিয়ে, টিশার্ট গায়ে দিয়ে, মাথায় কালো ক্যাপ চাপিয়ে নিজেকে কুল ডুডের ভাবে চলাফেরা করে সেই বিপ্লবি নেতা চে আর্নেস্তা গেভারার লিখা ভ্রমণ ডায়েরী অবলম্বনে নির্মিত হয়েছিলো স্প্যানিশ ভাষায় এই অমর সিনেমাটি। এক বছরের অধিক সময় তারা পরিভ্রমণ করেছিলেন লাতিন আমেরিকার আনাচে কানাচে। সে সময় তাঁরা মোটরসাইকেলে আর্জেন্টিনা, পেরু, কলম্বিয়া, ভেনিজুয়েলায় প্রায় ১২,০০০ মাইল এবং সমুদ্র ভ্রমনসহ প্রায় ২৮,০০০ মাইল এলাকা ভ্রমন করেন আর সে ভ্রমন অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেন মোটর সাইকেল ডায়েরী। একজন মানুষের মনে ডাক্তারির মতো মহান পেশাকে ছেড়ে কিভাবে বিপ্লবী নেতা হয়ে উঠার বীজ বপন হয়েছিলো তার এক ঝলক এই সিনেমায় দেখানো হয়েছে।  সিনেমাটার দারুণ প্রভাব আছে আমার জীবনে। মুলত পশ্চিমাদের কাছে চে একজন কট্টর কমিউনিস্ট নাস্তিক, খুনি এবং সন্ত্রাসী। আবার বলিভিয়া-কিউবা সহ যারা স্বৈরাচারীদের বিরুদ্ধে বিপ্লবের স্বপ্ন দেখে তাদের কাছে সে হিরো। ব্রাজিলিয়ান সমাজতত্ববিদ মাইকেল লই বলেন, "Che was not only a heroic fighter, but a revolutionary thinker, with a political and moral project and a system of ideas and values for which he fought and gave his life." যা উইকিপিডিয়ায় লিপিবদ্ধ আছে।





আমি বিচার করতে যাব না চে নায়ক নাকি খলনায়ক। প্রতিটা মানুষের আলাদা আলাদা বিশ্বাস থাকে, যা আমি অবশ্যই সম্মান করি। তবে যারা ভ্রমণ এবং এডভেঞ্চার সিনেমা পছন্দ করেন তাদের সিনেমাটি দেখার অনুরোধ করব।

Comments

Popular posts from this blog

প্রথম ইউটিউব ভিডিও যেমন হওয়া উচিৎ

একজন ইউটিউবারে প্রথম ভিডিও স্পেশাল হওয়া উচিত। চাকুরির প্রথমদিন স্পেশাল হওয়া উচিত। প্রিয়তমার প্রথম সাক্ষাত স্পেশাল হওয়া উচিত। প্রথম বেতনে কেনা জিনিসটিও স্পেশাল হওয়া উচিত। আসলে আমাদের প্রথম যে কোনো কিছুই স্পেশাল বা বিশেষ হওয়া উচিত কারণ এটি প্রথম এখান থেকেই শুরু… ব্রিটিশ আমেরিকান মোটিভেশনাল স্পিকার ও লেখক সাইমন সিনেকের " Start With Why "  বইটি পড়েছিলাম। সেখানে সাইমন সিনেক স্টিভ জবসের এ্যপল থেকে শুরু করে রাইট ভ্রাতাদ্বয়ের বিমান উড়ানো নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। তিনি W-H-W অর্থ্যাত What How Why ফর্মুলা বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেছিলেন যে দুনিয়ার যত কোম্পানি/স্টার্টাপ বা বিজনেস সেরা ও সফল হয়েছে তাদের মূলে ছিলো  'কেন'।  প্রোডাক্ট বা  কি  সবাই বিক্রি করে, মোটামুটি সবারই   কিভাবে  বা বিজনেস স্ট্র্যাটেজি একই কিন্তু যারা সফল হয়েছে তাদের সবার  কেন-টা   ভিন্ন ছিলো। ইউটিউবে একটি ভিডিও আপলোড করে সফলতা পাওয়া আষাঢের গল্পের মতো শোনায়। ইউটিউবে সফলতার একমাত্র পথ কন্সিসট্যান্সি বা ধারাবাহিকতা। আপনি দিনক্ষণ মেনে ভিডিও আপলোড করে যান সফলতা আসবে। অনেকে একটি দুইটি তিনটি ভিডিও ...

নিক নেমনামা

মঙ্গলবার রাত ৮ঃ৪৫ ২৮ জানুয়ারী ২০২০ অন্যসব দেশে কি হয় জানি না তবে আমাদের দেশে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাদের আসল নামের সাথে কোনো ব্যাঙ্গাত্মক নাম নেই। এই ব্যাঙ্গাত্মক ডাকনামের সংস্কৃতির উৎপত্তি কোথায় আমার জানা নেই। আর দুনিয়ায় এমন কিছু মানুষ যারা পথে-ঘাটে, জলে-স্থলে, শহরে-বন্দরে, বন্ধু-গফ যে কোনো জায়গায় ঐ নাম ছাড়া অন্য নামে ডাকে না। স্কুল-কলেজে এমন এক বন্ধু পাবেন যে সবার নামের আকিকা করে থাকে। কলেজে এই রোল আমিও প্লে করছি। অনেকের নাম আমার দেয়া। কিন্তু হুট করে একদিন আমার নামকরণ করা হলো মাইকেল। মুনতাসির থেকে মাইকেল। wtf… ভাই দিবি ভালো নাম দে। কি একটা ক্ষ্যাত নাম দিছিস (সেসময়কার ভাবনা)। কলেজে ক্রিকেট মোটামুটি খেলতাম। ঐসময় অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন ছিলো মাইকেল ক্লার্ক। উহু, সবার সামনে যখন বন্ধুরা এই নামে ডাকত, যখন অকওয়ার্ড ফিল করতাম তখন নিজেকে মিস্টার ক্যাপ্টেন ভেবে কুল থাকার চেষ্টা করতাম। পাগলের সুখ মনে মনে যাকে বলে আরকি। পোস্টারটি আমার করা জ্যাক স্প্যারো ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো পাইরেটস অব দ্য ক্যারাবীয়ান সিরিজ ও ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারোর অনেক বড় ফ্যান আমি। সেই সুব...

কেন বই পড়ি

রবিবার রাত ২ঃ০০ ২৬ জানুয়ারি প্র মথ চৌধুরির কাছে বই পড়া শখটা মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ শখ হলেও তিনি কাউকে শখ হিসেবে বই পড়তে পরামর্শ দিতেন না। কিন্তু আমি যতটুকু বই পড়ি শখের বসেই পড়ি। তবে আমাকে বই পড়তে যে মাহমুদুল শিখিয়েছে তা অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই। বন্ধু হিসেবে বিচার করবার আগে আমার বিবেক তার এই ঋণের কথা বারবার স্বরণ করিয়ে দেয়। যদ্দুর মনে পড়ে ওর কাছ থেকে নেওয়া রবিনসন ক্রুশ দিয়ে বই পড়া শুরু, তারপর পড়েছিলাম থ্রি কমরেড। এই বইয়ের কাছে জিন্দেগী না মিলেগী দোবারা কিংবা দিল চাহতা হে সিনেমার গল্প ফিকে পড়ে যায়। Photo by  Eliabe Costa  on  Unsplash প্রায় শুনতে পাওয়া যায় মানুষ বই কেনো পড়ে কেনো? ওয়ারেন বাফেট দিনে ৫ থেকে ৬ ঘন্টা ব্যয় করেন ৫টি পত্রিকা এবং অন্তত ৫০০ পৃষ্টার করপোরেট রিপোর্ট, ম্যাগাজিন পড়তে। তো সোজাসাপ্টা উত্তর জ্ঞানার্জনের জন্য। যে কারোরই বই পড়ার মুখ্য উদ্দেশ্য জ্ঞানার্জন। তবে যদি পাল্টা প্রশ্ন আসে যে সাহিত্য পড়ে কেনো? তাহলের এর উত্তরের জন্য দুবার ভাবতে হয়। সাধারনত লাজুক প্রকৃতির মানুষের বই বেশি পড়ে। আবার যারা একবার বই পড়ার মোহে ডুবে যায় তাদের নেশা হয়ে দাঁড়...