Skip to main content

Decision Making বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ

মঙ্গলবার
দুপুর ১২ঃ৩০
১৪ জানুয়ারী ২০২০

Decision বা সিদ্ধান্ত শব্দটা ছোট হলেও আমাদের জীবনে ভাইটাল রোল প্লে করে। ক্রিয়াপদের সব কিছুই নির্ভর করে সিদ্ধান্তের উপর। Decision এর উপর নির্ভর করে আমাদের যে কোনো কার্য সম্পাদন হয়। আসলে দুনিয়াতে কোনো ডিসিশন নিখুঁত হয় না। কোন সিদ্ধান্ত পক্ষে কাজ করে কোনোটা করে না, এই যা। কথাটা আমার না Gary Vaynerchuk এর। 



আমরা আসলে কেউ জানি না আমাদের সাথে আগামীতে কি ঘটতে যাচ্ছে। গেরী ভেনারচাক এর মতে, হয়তো আমি কোনো একটা বিজনেস করা সিদ্ধান্ত নিলাম। লক্ষ্য নির্ধারণ করে সে হিসেবে কাজ করে সুপার সাক্সেসফুল হয়েও গেলাম। কিন্তু কোনো একটা মিটিংএ যেতে কার এক্সিডেন্ট অথবা বিমান ক্রাশে মারা গেলাম বা কোনো কারণে বিশাল লসের মুখে আমাকে দেউলিয়া হয়ে যেতে হলো। আরেকদিকে, আমার এই বিজনেস করার ডিসিশন ড্রপ করে অন্য ছোটখাট কোনো জব করতেছি। জব শুরু দিকে ভালো না লাগলেও ধীরে ধীরে ভালো লাগা শুরু করছে আর আমি এটা নিয়ে সুখেও আছি, দেখা গেলো ৫০ বছর পর নাতিপুতিদের বিজনেস অপরচুনেটি ছেড়ে দেওয়ার গল্প শুনাচ্ছি। তো আপাতদৃষ্টিতে বিজনেসের আইডিয়া জোস, আমি সাক্সেসফুল তবে বিজনেস বেশিদিন টিকল না, সাথে আমিও। আবার অন্যদিকে ছোট একটা জব নিয়ে আমি রুপকথার গল্পের জায়গায় নাতিপুতিদের আমার স্ট্রাগলের গল্প শুনাচ্ছি। এদিক থেকে দেখলে পরের সিদ্ধান্তটা উপযুক্ত ছিলো বলে মনে হবে। এর উল্টোটাও হতে পারে। তো আমরা কেউ জানি না আমাদের লাইফে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো ঠিক কিনা ভুল। যদি সিদ্ধান্ত পক্ষে কাজ করে তো, ওকে গো ফর ইট। আর যদি পক্ষে কাজ না করে তবে নিজের সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়ে খাপ খাইয়ে নেওয়া অথবা এর সাথে লড়াই করে নিজের শেপে নিয়ে আসা। সিদ্ধান্ত সিদ্ধান্তই এর ভালো খারাপ নেই। যা আছে তা হলো আমার লাইফ, যাকে ঘিরে এই ডিসিশন নেওয়া। 




Decision বা সিদ্ধান্ত শব্দটাকে আরেকটু ঘেটে দেখলে আমাদের Limitation বা সীমাবদ্ধতা সামনে আসে। Decision Making এর সময় সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাড়ায় আমাদের সীমাবদ্ধতাগুলো। আমরা চাইলেও এর পক্ষে সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। খোলাসা করে বললে Choose VS Can't নিয়ে বলতে হয়। যেমন, আমি দিনে ১৪ ঘন্টা কাজ করতে পারি কিন্তু হেয়ালিপনা হোক কিংবা অন্য কোনো কারণে করি না। এটা আমার চয়েস, আমি বেছে নিয়েছি ১৪ ঘন্টা কাজ করব না আমি  অন্য কিছু করব। আবার অন্যদিকে আমার শরীর কুলায় না  অথবা আমি মানসিকভাবে সক্ষম না ১৪ ঘন্টা কাজ করতে। অথবা আমার ফ্যামিলিকে সময় দিতে হয় অথবা ট্রান্সপোর্ট সিস্টেমের কারনে আমি চাইলেও ১৪ ঘন্টা কাজ করতে পারি না। এগুলো আমার সীমাবদ্ধতা, আর ডিসিশন মেকিং এর সময় এই বিষয়গুলো অনেক বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আবার অনেক সময় অনেকগুলো অপশন থাকলে বিভ্রান্ত হয়ে যাই, এই ভেবে কোনোটা আমার জন্য ফলপ্রসু হবে, এটা আবার নিজের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে। 

আবার অনেক সময় দেখা যায় আমি যে বেপারে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছি সে সম্পর্কে তেমন কিছু জানি না। তো এ সময়ে যা করতে হয় তা হলো প্রথমে সে বিষয়ে নুন্যতম তথ্য জানার চেষ্টা করা। সোজা বাংলায় খাবার চেখে দেখা। খাবার চেখে দেখার অর্থ হলো আজ লাঞ্চে খোরমা-পোলাও হইছে বলে যে শুধু তাই খেতে হবে এমনটা কিন্তু না। এর সাথে আরও ৫/৬ আইটেমের ডিশ আছে। হতে পারে সাদা গরম ভাতের সাথে গরুর গোশত জব্বর রান্না হয়েছে। খোরমা-পোলাও এর থেকে অনেক বেশী টেস্টি। তো টেবিলের সব খাবার একটু করে চেখে দেখা উচিত, এতে করে ডিসিসন মেকিং এর ক্লিয়ারিটি পাওয়া যায় বা সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা আসে।

সত্য কথা কি জানেন? দ্রুততার সাথে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো সবচেয়ে বেশি ফলপ্রসু হয়। কারণ এগুলো আসে আমাদের অটো-সাজেশন বা আমাদের সাবকন্সাস মাইন্ড থেকে। দ্রুততার সাথে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো সঠিক হওয়ার কারণ হলো আমরা আমাদের মাইন্ডে যেভাবে খাইয়ে বড় করেছি, আমাদের মাইন্ড তাঁর পক্ষেই সবসময় কাজ করে। আমার মাইন্ড জানে আমি কি, কি করতে চাই, আর কি করতে পারি। তো সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় মাথায় আসা প্রথম অপশনে প্রায়োরিটি দেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।

Comments

Popular posts from this blog

প্রথম ইউটিউব ভিডিও যেমন হওয়া উচিৎ

একজন ইউটিউবারে প্রথম ভিডিও স্পেশাল হওয়া উচিত। চাকুরির প্রথমদিন স্পেশাল হওয়া উচিত। প্রিয়তমার প্রথম সাক্ষাত স্পেশাল হওয়া উচিত। প্রথম বেতনে কেনা জিনিসটিও স্পেশাল হওয়া উচিত। আসলে আমাদের প্রথম যে কোনো কিছুই স্পেশাল বা বিশেষ হওয়া উচিত কারণ এটি প্রথম এখান থেকেই শুরু… ব্রিটিশ আমেরিকান মোটিভেশনাল স্পিকার ও লেখক সাইমন সিনেকের " Start With Why "  বইটি পড়েছিলাম। সেখানে সাইমন সিনেক স্টিভ জবসের এ্যপল থেকে শুরু করে রাইট ভ্রাতাদ্বয়ের বিমান উড়ানো নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। তিনি W-H-W অর্থ্যাত What How Why ফর্মুলা বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেছিলেন যে দুনিয়ার যত কোম্পানি/স্টার্টাপ বা বিজনেস সেরা ও সফল হয়েছে তাদের মূলে ছিলো  'কেন'।  প্রোডাক্ট বা  কি  সবাই বিক্রি করে, মোটামুটি সবারই   কিভাবে  বা বিজনেস স্ট্র্যাটেজি একই কিন্তু যারা সফল হয়েছে তাদের সবার  কেন-টা   ভিন্ন ছিলো। ইউটিউবে একটি ভিডিও আপলোড করে সফলতা পাওয়া আষাঢের গল্পের মতো শোনায়। ইউটিউবে সফলতার একমাত্র পথ কন্সিসট্যান্সি বা ধারাবাহিকতা। আপনি দিনক্ষণ মেনে ভিডিও আপলোড করে যান সফলতা আসবে। অনেকে একটি দুইটি তিনটি ভিডিও ...

নিক নেমনামা

মঙ্গলবার রাত ৮ঃ৪৫ ২৮ জানুয়ারী ২০২০ অন্যসব দেশে কি হয় জানি না তবে আমাদের দেশে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাদের আসল নামের সাথে কোনো ব্যাঙ্গাত্মক নাম নেই। এই ব্যাঙ্গাত্মক ডাকনামের সংস্কৃতির উৎপত্তি কোথায় আমার জানা নেই। আর দুনিয়ায় এমন কিছু মানুষ যারা পথে-ঘাটে, জলে-স্থলে, শহরে-বন্দরে, বন্ধু-গফ যে কোনো জায়গায় ঐ নাম ছাড়া অন্য নামে ডাকে না। স্কুল-কলেজে এমন এক বন্ধু পাবেন যে সবার নামের আকিকা করে থাকে। কলেজে এই রোল আমিও প্লে করছি। অনেকের নাম আমার দেয়া। কিন্তু হুট করে একদিন আমার নামকরণ করা হলো মাইকেল। মুনতাসির থেকে মাইকেল। wtf… ভাই দিবি ভালো নাম দে। কি একটা ক্ষ্যাত নাম দিছিস (সেসময়কার ভাবনা)। কলেজে ক্রিকেট মোটামুটি খেলতাম। ঐসময় অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন ছিলো মাইকেল ক্লার্ক। উহু, সবার সামনে যখন বন্ধুরা এই নামে ডাকত, যখন অকওয়ার্ড ফিল করতাম তখন নিজেকে মিস্টার ক্যাপ্টেন ভেবে কুল থাকার চেষ্টা করতাম। পাগলের সুখ মনে মনে যাকে বলে আরকি। পোস্টারটি আমার করা জ্যাক স্প্যারো ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো পাইরেটস অব দ্য ক্যারাবীয়ান সিরিজ ও ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারোর অনেক বড় ফ্যান আমি। সেই সুব...

কেন বই পড়ি

রবিবার রাত ২ঃ০০ ২৬ জানুয়ারি প্র মথ চৌধুরির কাছে বই পড়া শখটা মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ শখ হলেও তিনি কাউকে শখ হিসেবে বই পড়তে পরামর্শ দিতেন না। কিন্তু আমি যতটুকু বই পড়ি শখের বসেই পড়ি। তবে আমাকে বই পড়তে যে মাহমুদুল শিখিয়েছে তা অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই। বন্ধু হিসেবে বিচার করবার আগে আমার বিবেক তার এই ঋণের কথা বারবার স্বরণ করিয়ে দেয়। যদ্দুর মনে পড়ে ওর কাছ থেকে নেওয়া রবিনসন ক্রুশ দিয়ে বই পড়া শুরু, তারপর পড়েছিলাম থ্রি কমরেড। এই বইয়ের কাছে জিন্দেগী না মিলেগী দোবারা কিংবা দিল চাহতা হে সিনেমার গল্প ফিকে পড়ে যায়। Photo by  Eliabe Costa  on  Unsplash প্রায় শুনতে পাওয়া যায় মানুষ বই কেনো পড়ে কেনো? ওয়ারেন বাফেট দিনে ৫ থেকে ৬ ঘন্টা ব্যয় করেন ৫টি পত্রিকা এবং অন্তত ৫০০ পৃষ্টার করপোরেট রিপোর্ট, ম্যাগাজিন পড়তে। তো সোজাসাপ্টা উত্তর জ্ঞানার্জনের জন্য। যে কারোরই বই পড়ার মুখ্য উদ্দেশ্য জ্ঞানার্জন। তবে যদি পাল্টা প্রশ্ন আসে যে সাহিত্য পড়ে কেনো? তাহলের এর উত্তরের জন্য দুবার ভাবতে হয়। সাধারনত লাজুক প্রকৃতির মানুষের বই বেশি পড়ে। আবার যারা একবার বই পড়ার মোহে ডুবে যায় তাদের নেশা হয়ে দাঁড়...