Skip to main content

একজন মিস্টার বিস্ট (MrBeast)

শুক্রবার
সন্ধ্যা ৭ঃ২৫
২৪ জানুয়ারী ২০২০

ইউটিউবের সাথে সখ্যতা কলেজে উঠার পর থেকে। আর ইউটিউবার হওয়ার সাধ জাগে ২০১৫ সালে। ২০১৬ সালে এই সাধকে আরেকটু গতি দেয় মোটিভেশন ফর ইউটিউবার শিরোনামের একটি ভিডিও। আসলে একটি না সম্ভবত ৫টি অথবা ৬টি ভিডিও ছিলো।

কিছুদিন আগে Colin and Samir তাদের ব্রেকডাউন সিরিজে MrBeast কে নিয়ে কথা বলে। তাদের ধারনা হয়তো আগামী কয়েক বছরের মধ্যে মিস্টার বিস্ট হতে যাচ্ছে ইউটিউবের নেক্সট পিউডিপাই। এর পক্ষে যথেষ্ট কারণও দেখায় তারা। মিস্টার বিস্ট ইউটিউবে একজন রেকর্ড ব্রেকার ক্রিয়েটর। যতসব উদ্ভট রেকর্ড তাঁর ঝুলিতে। সাম্প্রতিক ২০ মিলিয়ন গাছের চারা রোপন করে সে। এটা একটা চ্যালেঞ্জ ছিলো আর রেকর্ডও বটে।





আমি উপরে যে ইউটিউব মোটিভেশন ভিডিওর সম্পর্কে বললাম সে ভিডিও মিস্টার বিস্টেরই করা ছিলো। সেসময় তাঁর সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা ছিলো ৫০ হাজারের মতো। তাঁর বর্তমান সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা প্রায় ২৯ মিলিয়ন। ২০ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার পূর্ণ হওয়ায় সে টুইট করে উপরে তার স্ক্রিনশট দিয়েছি। আমি তাঁর পাচঁ লাখ থেকে ঊনত্রিশ মিলিয়নের জার্নিতে ছিলাম একজন সাবস্ক্রাইবার হিসেবে। সে একদিনে গ্রো করে নাই, তাঁর সাক্সেস ওভারনাইট ছিলো না। টানা আট বছরের কষ্টের ফসল এটি। ২০১৬ এবং ২০১৭ সালে প্রচুর কাজ করেছে সে। শুধু গেমিং না উদ্ভট সব ভিডিও এক্সপেরিমেন্ট করেছে ইউটিউবে। তাঁর চ্যানেল গ্রো করার কৌশল অন্যদের থেকে অবশ্যই ভিন্ন ছিলো তবে ৯০০+ ভিডিও আপলোড করা চাট্টিখানি কথা না। ক্যাসি নেস্ট্যাটের এক ভিডিওতে মিস্টার বিস্ট বলেছিলো যে, সে যা ইনকাম করে সব ইউটিউবে ঢেলে দেয়। দু হাতে টাকা লুটায় সে, যেন টাকায় ছিনিমিনি খেলে। যারা মিস্টার বিস্টকে চেনে তাদের অবশ্যই জানার কথা কেমন পাগলাটে সে।



ইউটিউবের মটো ব্রডকাস্ট ইওরসেলফ। আর ইউটিউবে যে কেউ ফেমাস হতে পারে। ফাঁকা বুলি ছুড়ছি না। উপরের ছবিটি দেখুন। মিস্টার বিস্টের ২০১৭ সাল থেকে ২০২০ সালের স্ট্যাটাস্টিক। কিভাবে দিনের পর দিন নিজেকে উপরে নিয়ে গেছে। ২০১৭ থেকে ২০১৮ সালে সে ৫ লাখ থেকে ২ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবারে নিয়ে যায়। পরের বছর ২০১৯ এর জানুয়ারি হতে হতে তাঁর চ্যানেলে আসে আরও ১১ মিলিয়ন সাববস্কাইবার। কোনো চ্যানেলে সাবস্ক্রাইবার বেশি থাকলে এর বৃদ্ধির গতি কমে যাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু মিস্টার বিস্ট তো রেকর্ড ব্রেকার, পুরো ২০১৯ সাল জুড়ে সে আরো প্রায় ১৫ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার জুটায় তাঁর চ্যানেলে। যার মোট করলে দাঁড়ায় ২৯ মিলিয়ন। ক্যাম্নে এই অসাধ্যকে  সাধন করছে এ নিয়ে অনেক আর্টিকেল লেখা হয়েছে, ইউটিউবেও অনেক ভিডিও আছে। আমি ওতো গভীরে যাব না। কিন্তু এই কাজ যে সম্ভব তা সে প্রমাণ করেছে। আর একজন জ্ঞানী ব্যক্তি বলেছিলেন, "দুনিয়ার কোনো কাজ যদি একজন মানুষ হলেও সম্ভব করে থাকে তাহলে সে কাজ যে কেউ করতে পারবে।" এর জন্য অবশ্যই সদিচ্ছা থাকতে হবে। 


ভালো থাকবেন।

Comments

  1. আসলেই সে ইউটিলাইজ জিনিয়াস !!!

    ReplyDelete
  2. আসলেই সে ইউটিউব জিনিয়াস !!!

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

প্রথম ইউটিউব ভিডিও যেমন হওয়া উচিৎ

একজন ইউটিউবারে প্রথম ভিডিও স্পেশাল হওয়া উচিত। চাকুরির প্রথমদিন স্পেশাল হওয়া উচিত। প্রিয়তমার প্রথম সাক্ষাত স্পেশাল হওয়া উচিত। প্রথম বেতনে কেনা জিনিসটিও স্পেশাল হওয়া উচিত। আসলে আমাদের প্রথম যে কোনো কিছুই স্পেশাল বা বিশেষ হওয়া উচিত কারণ এটি প্রথম এখান থেকেই শুরু… ব্রিটিশ আমেরিকান মোটিভেশনাল স্পিকার ও লেখক সাইমন সিনেকের " Start With Why "  বইটি পড়েছিলাম। সেখানে সাইমন সিনেক স্টিভ জবসের এ্যপল থেকে শুরু করে রাইট ভ্রাতাদ্বয়ের বিমান উড়ানো নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। তিনি W-H-W অর্থ্যাত What How Why ফর্মুলা বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেছিলেন যে দুনিয়ার যত কোম্পানি/স্টার্টাপ বা বিজনেস সেরা ও সফল হয়েছে তাদের মূলে ছিলো  'কেন'।  প্রোডাক্ট বা  কি  সবাই বিক্রি করে, মোটামুটি সবারই   কিভাবে  বা বিজনেস স্ট্র্যাটেজি একই কিন্তু যারা সফল হয়েছে তাদের সবার  কেন-টা   ভিন্ন ছিলো। ইউটিউবে একটি ভিডিও আপলোড করে সফলতা পাওয়া আষাঢের গল্পের মতো শোনায়। ইউটিউবে সফলতার একমাত্র পথ কন্সিসট্যান্সি বা ধারাবাহিকতা। আপনি দিনক্ষণ মেনে ভিডিও আপলোড করে যান সফলতা আসবে। অনেকে একটি দুইটি তিনটি ভিডিও ...

নিক নেমনামা

মঙ্গলবার রাত ৮ঃ৪৫ ২৮ জানুয়ারী ২০২০ অন্যসব দেশে কি হয় জানি না তবে আমাদের দেশে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাদের আসল নামের সাথে কোনো ব্যাঙ্গাত্মক নাম নেই। এই ব্যাঙ্গাত্মক ডাকনামের সংস্কৃতির উৎপত্তি কোথায় আমার জানা নেই। আর দুনিয়ায় এমন কিছু মানুষ যারা পথে-ঘাটে, জলে-স্থলে, শহরে-বন্দরে, বন্ধু-গফ যে কোনো জায়গায় ঐ নাম ছাড়া অন্য নামে ডাকে না। স্কুল-কলেজে এমন এক বন্ধু পাবেন যে সবার নামের আকিকা করে থাকে। কলেজে এই রোল আমিও প্লে করছি। অনেকের নাম আমার দেয়া। কিন্তু হুট করে একদিন আমার নামকরণ করা হলো মাইকেল। মুনতাসির থেকে মাইকেল। wtf… ভাই দিবি ভালো নাম দে। কি একটা ক্ষ্যাত নাম দিছিস (সেসময়কার ভাবনা)। কলেজে ক্রিকেট মোটামুটি খেলতাম। ঐসময় অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন ছিলো মাইকেল ক্লার্ক। উহু, সবার সামনে যখন বন্ধুরা এই নামে ডাকত, যখন অকওয়ার্ড ফিল করতাম তখন নিজেকে মিস্টার ক্যাপ্টেন ভেবে কুল থাকার চেষ্টা করতাম। পাগলের সুখ মনে মনে যাকে বলে আরকি। পোস্টারটি আমার করা জ্যাক স্প্যারো ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো পাইরেটস অব দ্য ক্যারাবীয়ান সিরিজ ও ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারোর অনেক বড় ফ্যান আমি। সেই সুব...

কেন বই পড়ি

রবিবার রাত ২ঃ০০ ২৬ জানুয়ারি প্র মথ চৌধুরির কাছে বই পড়া শখটা মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ শখ হলেও তিনি কাউকে শখ হিসেবে বই পড়তে পরামর্শ দিতেন না। কিন্তু আমি যতটুকু বই পড়ি শখের বসেই পড়ি। তবে আমাকে বই পড়তে যে মাহমুদুল শিখিয়েছে তা অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই। বন্ধু হিসেবে বিচার করবার আগে আমার বিবেক তার এই ঋণের কথা বারবার স্বরণ করিয়ে দেয়। যদ্দুর মনে পড়ে ওর কাছ থেকে নেওয়া রবিনসন ক্রুশ দিয়ে বই পড়া শুরু, তারপর পড়েছিলাম থ্রি কমরেড। এই বইয়ের কাছে জিন্দেগী না মিলেগী দোবারা কিংবা দিল চাহতা হে সিনেমার গল্প ফিকে পড়ে যায়। Photo by  Eliabe Costa  on  Unsplash প্রায় শুনতে পাওয়া যায় মানুষ বই কেনো পড়ে কেনো? ওয়ারেন বাফেট দিনে ৫ থেকে ৬ ঘন্টা ব্যয় করেন ৫টি পত্রিকা এবং অন্তত ৫০০ পৃষ্টার করপোরেট রিপোর্ট, ম্যাগাজিন পড়তে। তো সোজাসাপ্টা উত্তর জ্ঞানার্জনের জন্য। যে কারোরই বই পড়ার মুখ্য উদ্দেশ্য জ্ঞানার্জন। তবে যদি পাল্টা প্রশ্ন আসে যে সাহিত্য পড়ে কেনো? তাহলের এর উত্তরের জন্য দুবার ভাবতে হয়। সাধারনত লাজুক প্রকৃতির মানুষের বই বেশি পড়ে। আবার যারা একবার বই পড়ার মোহে ডুবে যায় তাদের নেশা হয়ে দাঁড়...