Skip to main content

লাইফ ইজ এ মিলিওন শেডস অফ গ্রে!

মার্চের ২৫ তারিখ শুরু করছিলাম, ড্রাফটে ছিলো এপ্রিলের চারে এসে গোঁজামিল দিয়ে শেষ করলাম।

আমি পুরোটা সময় ভেবে আসছি লাইফ ব্লাক & হোয়াইট ফিল্মের মতো। আমি যেভাবে দেখি দুনিয়াটা ঠিক তেমনি। আমি কারও সাথে অসভ্যতা করলে তার কাছ থেকে তেমনি আচারন ফেরত চাই। যারে প্রচন্ড ভালোবাসি, সেও যেন আমাকে তেমনটাই দেয়। 

কিন্তু দুনিয়াটা এমন না। যে এই বেপারটা যত দ্রুত নিজের লাইফে শিখে নিতে পারে তার জন্য তত ভালো। জীবন টা সহজ হয়ে যাবে। দুনিয়া সুন্দর লাগবে। চারদিকে ফুল ফুটবে, পাখি গাইবে। বাতাসের মাদকতার মাত্রা বেড়ে যাবে। তবুও মাতলামী আপনাকে ছুবে না। দুনিয়া মাতাল হবে কিন্তু আপনি না। 

দুনিয়ার প্রতিটা মানুষের জীবনে গল্প আছে। প্রতিটা মানুষ তার গল্পের নায়ক। প্রতিটা গল্পের আলাদা গল্প আছে। আবার সবাই সবার গল্পে আছে। আমারও গল্প আছে, আপনারও আছে। আমিও নায়ক, আপনিও নায়ক। আপনিও আমার গল্পে আছে, আমিও হয়তো আপনার টায় আছি। 


আমি আমার লাইফে অনেক মুভি দেখছি। তার মধ্যে অল্প কিছু মুভি এত্তো দারুণ যে হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। সিনেমা পারাদিসো সেই মুভিগুলোর প্রথম সারিতে থাকবে। মুভিতে আলফ্রেদো বলে, “I choose my friends for their looks, my enemies for their intelligence.”  জীবনে শত্রু থাকার দরকার আছে। বন্ধুর থেকেও বেশি। জীবনের শ্রেষ্ঠ শিক্ষাটা একজন মানুষ তার শত্রুর কাছেই পায়।

আপনি যেখানে ঠেকে যাবেন সেখান থেকেই আপনার শেখাটা শুরু হবে। ছোট ছোট হোঁচট আপনাকে পথ চেনাবে। মানুষ তো জীবনের শেষপ্রান্তে গিয়েও শিখে। 

একটা বেপার কি জানেন? সবাই আপনাকে গ্রহন করবে না আবার সবাই আপনাকে ফেলেও দিবে না। সবারই দুনিয়ার গ্রহনযোগ্যতা আছে কিন্তু সবার কাছে নাই। এটার জন্য মানুষভেদ, মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি অনেকটা দায়ী। 

আমি কিছুদিন ধরে দেখতেছি এই ব্লগে মানুষের আনাগোনা বাড়ছে। বাড়ছে মানে আগে ছিলো না ইদানীং দু একটা ভিউ হচ্ছে। কোত্থেকে আসে আমার জানা নেই। যারা আসে তারা টানা কয়েকটা পোস্ট পড়ে যায়। মানে তারা আমাকে গ্রহণ করেছে। আমার লেখা ভালো লাগুক বা না লাগুক আমি তাদের গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছি বলতে পারেন।

আমিও অনেক গার্বেজ কন্টেন্ট গোগ্রাসে গিলে ফেলি, আপনিও একই কাজ করেন। তাই বলে কি আমি বা আপনি সেগুলো পছন্দ করি? খারাপ ফালতু নিকৃষ্ট জেনেও আমরা এই কাজটা করি। করার পেছনে হয়ত কারণ থাকে।

আসলে দুনিয়ায় ঠিক বা ভুল বলতে কিছু নাই। এটা নিয়ে আমি সম্ভবত লিখছিলাম। যাই হোক, আমাদের প্রতিটা ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার পেছনে অবশ্যই একটা কারণ থাকে। এই কারণ হাজারটাও হতে পারে। তো আমি বা আপনি এই কারণগুলো না জেনে অবশ্যই কাউকে বিচার করতে যাব না। আর করাটাও ঠিক হবে না। করা উচিৎও নয়। 

ভুল খারাপ সবার মধ্যেই আছে। কম-বেশি আছে। ওইতো লাইফ তো আর সিনেমার  মতো না। জীবনের অনেক রঙ। সাদা-কালো এই দুই রঙের খেলা শুধু সিনেমাতেই হয়। সিনেমা পারাদিসো মুভির আরেকটি সংলাপ আমার প্রচন্ড মনে ধরেছিলো। আলফ্রেডো তোতোকে জীবনবোধ শেখাতে গিয়ে এক পর্যায়ে বলে, "Life isn't like in the movies. Life... is much harder."

কঠিন সহজ যে যার জায়গায় আছে থাকবে। জীবন থেমে নেই। এভাবেই যাচ্ছে জীবন, জীবনের নিয়মে। 


Comments

Popular posts from this blog

প্রথম ইউটিউব ভিডিও যেমন হওয়া উচিৎ

একজন ইউটিউবারে প্রথম ভিডিও স্পেশাল হওয়া উচিত। চাকুরির প্রথমদিন স্পেশাল হওয়া উচিত। প্রিয়তমার প্রথম সাক্ষাত স্পেশাল হওয়া উচিত। প্রথম বেতনে কেনা জিনিসটিও স্পেশাল হওয়া উচিত। আসলে আমাদের প্রথম যে কোনো কিছুই স্পেশাল বা বিশেষ হওয়া উচিত কারণ এটি প্রথম এখান থেকেই শুরু… ব্রিটিশ আমেরিকান মোটিভেশনাল স্পিকার ও লেখক সাইমন সিনেকের " Start With Why "  বইটি পড়েছিলাম। সেখানে সাইমন সিনেক স্টিভ জবসের এ্যপল থেকে শুরু করে রাইট ভ্রাতাদ্বয়ের বিমান উড়ানো নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। তিনি W-H-W অর্থ্যাত What How Why ফর্মুলা বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেছিলেন যে দুনিয়ার যত কোম্পানি/স্টার্টাপ বা বিজনেস সেরা ও সফল হয়েছে তাদের মূলে ছিলো  'কেন'।  প্রোডাক্ট বা  কি  সবাই বিক্রি করে, মোটামুটি সবারই   কিভাবে  বা বিজনেস স্ট্র্যাটেজি একই কিন্তু যারা সফল হয়েছে তাদের সবার  কেন-টা   ভিন্ন ছিলো। ইউটিউবে একটি ভিডিও আপলোড করে সফলতা পাওয়া আষাঢের গল্পের মতো শোনায়। ইউটিউবে সফলতার একমাত্র পথ কন্সিসট্যান্সি বা ধারাবাহিকতা। আপনি দিনক্ষণ মেনে ভিডিও আপলোড করে যান সফলতা আসবে। অনেকে একটি দুইটি তিনটি ভিডিও ...

নিক নেমনামা

মঙ্গলবার রাত ৮ঃ৪৫ ২৮ জানুয়ারী ২০২০ অন্যসব দেশে কি হয় জানি না তবে আমাদের দেশে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাদের আসল নামের সাথে কোনো ব্যাঙ্গাত্মক নাম নেই। এই ব্যাঙ্গাত্মক ডাকনামের সংস্কৃতির উৎপত্তি কোথায় আমার জানা নেই। আর দুনিয়ায় এমন কিছু মানুষ যারা পথে-ঘাটে, জলে-স্থলে, শহরে-বন্দরে, বন্ধু-গফ যে কোনো জায়গায় ঐ নাম ছাড়া অন্য নামে ডাকে না। স্কুল-কলেজে এমন এক বন্ধু পাবেন যে সবার নামের আকিকা করে থাকে। কলেজে এই রোল আমিও প্লে করছি। অনেকের নাম আমার দেয়া। কিন্তু হুট করে একদিন আমার নামকরণ করা হলো মাইকেল। মুনতাসির থেকে মাইকেল। wtf… ভাই দিবি ভালো নাম দে। কি একটা ক্ষ্যাত নাম দিছিস (সেসময়কার ভাবনা)। কলেজে ক্রিকেট মোটামুটি খেলতাম। ঐসময় অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন ছিলো মাইকেল ক্লার্ক। উহু, সবার সামনে যখন বন্ধুরা এই নামে ডাকত, যখন অকওয়ার্ড ফিল করতাম তখন নিজেকে মিস্টার ক্যাপ্টেন ভেবে কুল থাকার চেষ্টা করতাম। পাগলের সুখ মনে মনে যাকে বলে আরকি। পোস্টারটি আমার করা জ্যাক স্প্যারো ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো পাইরেটস অব দ্য ক্যারাবীয়ান সিরিজ ও ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারোর অনেক বড় ফ্যান আমি। সেই সুব...

কেন বই পড়ি

রবিবার রাত ২ঃ০০ ২৬ জানুয়ারি প্র মথ চৌধুরির কাছে বই পড়া শখটা মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ শখ হলেও তিনি কাউকে শখ হিসেবে বই পড়তে পরামর্শ দিতেন না। কিন্তু আমি যতটুকু বই পড়ি শখের বসেই পড়ি। তবে আমাকে বই পড়তে যে মাহমুদুল শিখিয়েছে তা অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই। বন্ধু হিসেবে বিচার করবার আগে আমার বিবেক তার এই ঋণের কথা বারবার স্বরণ করিয়ে দেয়। যদ্দুর মনে পড়ে ওর কাছ থেকে নেওয়া রবিনসন ক্রুশ দিয়ে বই পড়া শুরু, তারপর পড়েছিলাম থ্রি কমরেড। এই বইয়ের কাছে জিন্দেগী না মিলেগী দোবারা কিংবা দিল চাহতা হে সিনেমার গল্প ফিকে পড়ে যায়। Photo by  Eliabe Costa  on  Unsplash প্রায় শুনতে পাওয়া যায় মানুষ বই কেনো পড়ে কেনো? ওয়ারেন বাফেট দিনে ৫ থেকে ৬ ঘন্টা ব্যয় করেন ৫টি পত্রিকা এবং অন্তত ৫০০ পৃষ্টার করপোরেট রিপোর্ট, ম্যাগাজিন পড়তে। তো সোজাসাপ্টা উত্তর জ্ঞানার্জনের জন্য। যে কারোরই বই পড়ার মুখ্য উদ্দেশ্য জ্ঞানার্জন। তবে যদি পাল্টা প্রশ্ন আসে যে সাহিত্য পড়ে কেনো? তাহলের এর উত্তরের জন্য দুবার ভাবতে হয়। সাধারনত লাজুক প্রকৃতির মানুষের বই বেশি পড়ে। আবার যারা একবার বই পড়ার মোহে ডুবে যায় তাদের নেশা হয়ে দাঁড়...