বৃহস্পতিবার
সন্ধ্যা ৬ঃ৪৫
২৫ মার্চ ২০২১
অনেকদিন পর লিখতে বসলাম। কেন যে বসলাম। হাবিজাবি লিখবো। লিখিই তো আমি হাবিজাবি সব। কিন্তু লেখাগুলো আমার। হাবিজাবি হোক আর যাই হোক।
অনেকদিন লিখি না। কেন লিখি না এর কোনো উত্তর নাই। চিটাগাং আসছিলাম ২ মাস আগে। কেন আসছিলাম? অনেক কারণ ছিলো। অনেকে অনেকবার এই নিয়ে অনেক প্রশ্ন করছে। এড়ায় গেছি প্রতিবার। এখনো যাবো!
সেদিন আমাকে কাছের একজন বললো আমার নাকি ইমেজিনেশন পাওয়ার অনেক। কল্পনা করতে পারি, মানে জানি। আমার কাছেও মনেহয়, আমি ভালো কল্পনা করতে জানি। সবাই নিজের কাছে নিজের হিরো। আমিও হয়তো।
স্টোরি বলা আমার পছন্দের। এই ব্লগে প্রথম শুরু করেছিলাম। শেষ করা হয়ে উঠেনি। গল্পের তো শেষ নেই, আমিই বা করবো কেন। কিন্তু এই গল্পগুলো ভিডিও আকারে করার অনেক শখ। হ্যাঁ ইচ্ছার থেকে বেশি শখ।
আমার রেজিস্ট্যান্স অনেক। এখন বলতে নিলে পারবো না বলতে। কারণ না বলতে পারাটাও রেজিস্ট্যান্স। এই একটা বেপার আমাকে সব জায়গায় পিছনে আটকে রাখছে।
পুরো দেশ বাইক নিয়ে ট্যুর দেওয়ার প্লান আছে। এটা করতে পারলে জীবনের যত গল্প আছে সব এখানে ঝেড়ে ফেলে দিবো। সব হয়তো হবে না। যেভাবে চাইবো সেভাবে সব হবে না। তবুও সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে।
ক্যাসি নেইস্ট্যাট আমার অনেক পছন্দের একজন ফিল্মমেকার। ড্রামা মুভি আমার বেশি ভালো লাগে। কমেডিও পছন্দের কিন্তু ফিল্মের প্রকৃত নির্যাস জীবনমুখি মুভিগুলোতেই।
আচ্ছা বলা হয়নি, গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখতেছি। অনেকখানি শিখছি। তবে প্রাক্টিস করা হচ্ছে না। এই জিনিসটা এত্তো জোস। অনেক ইঞ্জয় করতেছি। একটা কথা আছে যে, "পাথ টু সাক্সেস ইজ হ্যাভিং ফান"।
কাজের বেলায় আমি অনেক অলস। অনেক বলতে অনেক বেশি। কাজের সাথে ইঞ্জয় করাটা জরুরী। আমি আবার কাজ করতে গিয়া ইঞ্জয় করি বেশি। আর কাজ করতে ভুলে যাই। এটার উল্টো হওয়া উচিত।
কি উচিত আর কি করা উচিত না এটা অনেকে বুঝতে পারে না। স্রোতের সাথে ভেসে যায়। যাফি ভাই বলছিলো, 'স্রোতে গা ভাসিয়ো না, ডেড ফিস নও তুমি যে স্রোতের সাথে ভেসে যাবা।' ভাইয়ার এই কথা আমি ভুলিনি। মনে রেখেও কোনো কাজে আসতেছে না।
অনেক কিছু করার ছিলো। অনেক কিছু করা হয়নি। না করার আক্ষেপ অনেক বেশি পীড়াদায়ক। আমি করবো। করতেই হবে। আমার জন্য করবো। নিজের জন্য। মরার সময় যাতে আফসোস না হয়।
বলছিলাম আমি কল্পনা করতে পারি। মাঝে মাঝে ভাবি, আমি জীবনের অন্তিম মুহুর্তে এসে কি ভাববো? কি ভাবা উচিত। হয়তো কাউকে সরি বলার ছিলো বলতে পারি নি, বা কোথাও ছোট্ট একটা মিথ্যা বলছিলাম, বা সত্য জানা কারও অধিকার ছিলো জানানো হয়নি তাকে।
আমার আত্মা ধীরে ধীরে আসমানে ভাসবে আর আমি কষ্টে পীড়ায় মারা পড়বো এই ভেবে যে একটা শেষ সুযোগ পেলাম না। হাতে যদি ২মিনিট বেশি সময় পেতাম। সত্যটা বলে দিতাম। গাছের গোড়ায় ২দিন পানি দেওয়া হয়নি, পানি ঢেলে বলে আসতাম আমি যাচ্ছি। কাউকে খুব করে জড়ায় ধরতাম। কারও দুঃখে ভাগ বসাতাম।
সবচেয়ে বেশী পীড়া দিবে আমি অন্তিম যাত্রায় একথা ভাবছি কেনো। কেনো এসব আগে ভাবিনি, আগে করিনি। আমি আগেও অতীতে ছিলাম, এখনো অতীতেই পড়ে আছি। আসমান থেকে দুনিয়া কত সুন্দর দেখায় একথা ভাবছি না কেনো। ধীরে ধীরে সব ছোট হয়ে আসতেছে, মেঘের সাথে ধাক্কা খাচ্ছি বারবার, পাখিরা উড়ে যাচ্ছে।
স্কাইডাইভিং করার অনেক ইচ্ছে ছিলো। টাকার জন্য করতে পারিনি। এখন তো ফ্রিতে স্কাই ডাইভিং এর ফিল পাচ্ছি। আমার তো বর্তমানে বাঁচা উচিত। এই সময়টাকে উপভোগ করা উচিত। আচ্ছা এই ছবিগুলো তো ফেসবুকে পোস্ট করতে পারবো না। বন্ধুদের দেখিয়ে আলগা ভাব নিতে পারবো না।
বন্ধুবর, কষ্ট পেও না। আমার প্রস্থান তোমাদের সর্বোচ্চ ৩দিন পীড়া দিবে। তারপর থেকে সব স্বাভাবিক হয়ে আসবে। আমি জানি, আমারও এমন হয়েছিলো। কেউ কারও জন্য থেমে থাকে না। জীবনের এলগরিদম টাই এমন।
আমার অনেক পুরাতন ফুটেজ হার্ডড্রাইভে পড়ে আছে। এসবের গল্প বলবো বলবো করে বলা হয় না। সময়ের অযুহাত দিয়ে তো লাভ নেই। আমার কাছে অফুরন্ত সময়। তবুও সময়ের নাগাল পাইনে। ভেসে যাচ্ছে সময় ধরতে পারি না।
নিজের কাছে কত প্রমিস করলাম কত ভাঙলাম। প্রতিবার প্রমিস ভাঙ্গার পর কমাডর বারবোসার রুলস বানানোই হয় রুলস ভাঙবার জন্য কথাটা বলে নিজেকে সান্ত্বনা দিই। নিজেকে মিথ্যা অযুহাত, মিথ্যা কথায় ভুলিয়ে রাখা ছাড়া আর আছেই বা কি।
ট্রেনের লাইন ধরে হাটবার অনেক ইচ্ছা আছে। স্টান্ড বাই মুভি এই ইচ্ছাটা আমার অনেক গুনে বাড়ায় দিছে। এখন পর্যন্ত আমি প্রায় ৬৪১ শব্দ লিখে ফেলছি। অন্যদিন ২লাইন লিখতে হাত ভারী হয়ে আসে।
ছবিটা আমার ফেসবুকে প্রফাইল পিকচার দেওয়া আছে। আরও অদ্ভুত কতকিছু আমি ফেসবুকে দেই। মানুষ আমাকে পাগল বলে। মুখে বলে না, তবে বলে।
আচ্ছা শেষ করি!!!

Comments
Post a Comment