Skip to main content

ভাস্কর্য থেকে মূর্তি

সে অনেকদিন আগের কথা। তখন আলেকজান্ডার 'দি' গ্রেট এর জয় জয়কর গোটা দুনিয়া জুড়ে। একের পর এক সম্রাজ্য জয় করতেছে। পারস্যের পর আফগান হিন্দুকুশ হয়ে এবার ভারতবর্ষ দখলের পালা। যেই কথা সেই কাজ। কেউ কেউ বলে আলেকজান্ডার ভারতের একাংশ দখল করেছিলো আবার কোনো কোনো ইতিহাসবিদ দাবি করে আলেকজান্ডার রাজা পুরুসের কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়।

যাকগে ঘটনা সেটা, ঘটনা হলো গ্রিকরা ভারতীয়দের কাছে সাটিয়ে লাল হয়ে পশ্চাৎগমন করেছিলো। হোক রাজা পুরুস কিংবা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের কাছে। পশ্চাৎগমন যে সবাই করেছিলো তা সত্য না। যাওয়ার সময় কিছু সাঙ্গপাঙ্গ রেখে গেছিলো যারা বোদ্ধ মন্দির গুলোতে আশ্রয় নেয়। সে সময় ভারতবর্ষের আশেপাশের অঞ্চলগুলোতে বুদ্ধ ধর্মের ব্যপক মান্যতা ছিলো। আর এদিকে মহাপুরুষ গৌতম বুদ্ধ অনন্তলোকে যাত্রার আগে শেষ ইচ্ছা হিসেবে তাঁর শিষ্যদের কাছে চেয়েছিলেন তারা যেন তাঁর পূজা না করে। তাঁর নামের কোনো মূর্তি যে তৈরি না করে। শিষ্যরা অনেক সময় পর্যন্ত তা করেছিলোও... কিন্তু


একটা কথা জেনে রাখা ভালো যে, গ্রীকরা জাতিতে সভ্য ছিলো, দর্শন শিল্প কলা আর জ্ঞান-বিজ্ঞানে ছিলো উন্নত। বিশ্ব সভ্যতার সুতিকাগার এই গ্রিকরাই। সক্রেটিস এরিস্টটল প্লেটো ছাড়াও পৌরনিক কাহিনীর সব দেব-দেবীর পাথুরে মুর্তি এখনো প্রাচীন গ্রীসের এথেন্স শহরে দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু গ্রীক যোদ্ধারা ছিলো বর্বর। জঙ্গলে বাস করা জন্তু জানোয়ার। শুধু গ্রীক নয় আশেপাশের সম্রাজ্যের ভাড়াটে হিসেবেও তারা যুদ্ধ করত। 

তো গৌতম বুদ্ধের মুর্তি পূজার কথা বলছিলাম। আলেকজান্ডার যাওয়ার আগে যে সাঙ্গপাঙ্গ রেখে গিয়েছিলেন তারা একসময় নিজের অকাধে চলে আসে। বুদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করলেও তারা সেই ধর্মের মহাপুরুষ গৌতম বুদ্ধের নির্দেশ উপেক্ষা করে পাথর খোদাই করে গৌতম বুদ্ধের প্রতিকৃতি তৈরি করে। বলা হয় শুরু দিকে ভক্তির নিদর্শন স্বরুপ বুদ্ধ মূর্তির উদ্ভব হলেও সময়ের সাথে তা পূজনীয় হয়ে উঠে। আর এখন বোদ্ধ প্রধান দেশ থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, চীনের মন্দিরের মন্দিরের গৌতম বুদ্ধের সেই মুর্তির পূজা করা হয়। 

এক সময় ইরাকিদের শৌর্য আর অহংকারের প্রতীক সাদ্দাম হোসেনের মুর্তি ফিরদৌস চত্বরে শোভা বাড়িয়েছিলো। যে জায়গাটা এখন খাঁ-খাঁ করে। ফিরদৌস চত্বরে ভাস্কর্য ছিলো নাকি মূর্তি তা আমি জানি না কিন্তু একটা কথা সত্য যে মানুষ গত হয়ে গেলে দামী হয়ে যায়, পূজনীয় হয়ে উঠে। এ কথা মানতে হয় যে, আজও যদি সেখানে সাদ্দাম হোসেনের মুর্তিটি থাকত ইরাকিরা পূজো করতে যেত। স্বীয় ইচ্ছায় কিংবা শয়তানের প্ররোচনায় প্রলুব্ধ হয়ে।

মূর্তি নাকি ভাস্কর্য সেটা মূখ্য নয়। আপনি যার কাছে নত হয়েছেন, যার মান্যতা স্বীকার করেছেন তাঁর সকল আদেশ নিষেধ মেনে চলা। নাকি তাঁর বিরুদ্ধচারণ করে নিজের বিবেক মনুষ্যত্বের অস্তিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। 

Comments

Popular posts from this blog

প্রথম ইউটিউব ভিডিও যেমন হওয়া উচিৎ

একজন ইউটিউবারে প্রথম ভিডিও স্পেশাল হওয়া উচিত। চাকুরির প্রথমদিন স্পেশাল হওয়া উচিত। প্রিয়তমার প্রথম সাক্ষাত স্পেশাল হওয়া উচিত। প্রথম বেতনে কেনা জিনিসটিও স্পেশাল হওয়া উচিত। আসলে আমাদের প্রথম যে কোনো কিছুই স্পেশাল বা বিশেষ হওয়া উচিত কারণ এটি প্রথম এখান থেকেই শুরু… ব্রিটিশ আমেরিকান মোটিভেশনাল স্পিকার ও লেখক সাইমন সিনেকের " Start With Why "  বইটি পড়েছিলাম। সেখানে সাইমন সিনেক স্টিভ জবসের এ্যপল থেকে শুরু করে রাইট ভ্রাতাদ্বয়ের বিমান উড়ানো নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। তিনি W-H-W অর্থ্যাত What How Why ফর্মুলা বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেছিলেন যে দুনিয়ার যত কোম্পানি/স্টার্টাপ বা বিজনেস সেরা ও সফল হয়েছে তাদের মূলে ছিলো  'কেন'।  প্রোডাক্ট বা  কি  সবাই বিক্রি করে, মোটামুটি সবারই   কিভাবে  বা বিজনেস স্ট্র্যাটেজি একই কিন্তু যারা সফল হয়েছে তাদের সবার  কেন-টা   ভিন্ন ছিলো। ইউটিউবে একটি ভিডিও আপলোড করে সফলতা পাওয়া আষাঢের গল্পের মতো শোনায়। ইউটিউবে সফলতার একমাত্র পথ কন্সিসট্যান্সি বা ধারাবাহিকতা। আপনি দিনক্ষণ মেনে ভিডিও আপলোড করে যান সফলতা আসবে। অনেকে একটি দুইটি তিনটি ভিডিও ...

নিক নেমনামা

মঙ্গলবার রাত ৮ঃ৪৫ ২৮ জানুয়ারী ২০২০ অন্যসব দেশে কি হয় জানি না তবে আমাদের দেশে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাদের আসল নামের সাথে কোনো ব্যাঙ্গাত্মক নাম নেই। এই ব্যাঙ্গাত্মক ডাকনামের সংস্কৃতির উৎপত্তি কোথায় আমার জানা নেই। আর দুনিয়ায় এমন কিছু মানুষ যারা পথে-ঘাটে, জলে-স্থলে, শহরে-বন্দরে, বন্ধু-গফ যে কোনো জায়গায় ঐ নাম ছাড়া অন্য নামে ডাকে না। স্কুল-কলেজে এমন এক বন্ধু পাবেন যে সবার নামের আকিকা করে থাকে। কলেজে এই রোল আমিও প্লে করছি। অনেকের নাম আমার দেয়া। কিন্তু হুট করে একদিন আমার নামকরণ করা হলো মাইকেল। মুনতাসির থেকে মাইকেল। wtf… ভাই দিবি ভালো নাম দে। কি একটা ক্ষ্যাত নাম দিছিস (সেসময়কার ভাবনা)। কলেজে ক্রিকেট মোটামুটি খেলতাম। ঐসময় অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন ছিলো মাইকেল ক্লার্ক। উহু, সবার সামনে যখন বন্ধুরা এই নামে ডাকত, যখন অকওয়ার্ড ফিল করতাম তখন নিজেকে মিস্টার ক্যাপ্টেন ভেবে কুল থাকার চেষ্টা করতাম। পাগলের সুখ মনে মনে যাকে বলে আরকি। পোস্টারটি আমার করা জ্যাক স্প্যারো ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো পাইরেটস অব দ্য ক্যারাবীয়ান সিরিজ ও ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারোর অনেক বড় ফ্যান আমি। সেই সুব...

কেন বই পড়ি

রবিবার রাত ২ঃ০০ ২৬ জানুয়ারি প্র মথ চৌধুরির কাছে বই পড়া শখটা মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ শখ হলেও তিনি কাউকে শখ হিসেবে বই পড়তে পরামর্শ দিতেন না। কিন্তু আমি যতটুকু বই পড়ি শখের বসেই পড়ি। তবে আমাকে বই পড়তে যে মাহমুদুল শিখিয়েছে তা অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই। বন্ধু হিসেবে বিচার করবার আগে আমার বিবেক তার এই ঋণের কথা বারবার স্বরণ করিয়ে দেয়। যদ্দুর মনে পড়ে ওর কাছ থেকে নেওয়া রবিনসন ক্রুশ দিয়ে বই পড়া শুরু, তারপর পড়েছিলাম থ্রি কমরেড। এই বইয়ের কাছে জিন্দেগী না মিলেগী দোবারা কিংবা দিল চাহতা হে সিনেমার গল্প ফিকে পড়ে যায়। Photo by  Eliabe Costa  on  Unsplash প্রায় শুনতে পাওয়া যায় মানুষ বই কেনো পড়ে কেনো? ওয়ারেন বাফেট দিনে ৫ থেকে ৬ ঘন্টা ব্যয় করেন ৫টি পত্রিকা এবং অন্তত ৫০০ পৃষ্টার করপোরেট রিপোর্ট, ম্যাগাজিন পড়তে। তো সোজাসাপ্টা উত্তর জ্ঞানার্জনের জন্য। যে কারোরই বই পড়ার মুখ্য উদ্দেশ্য জ্ঞানার্জন। তবে যদি পাল্টা প্রশ্ন আসে যে সাহিত্য পড়ে কেনো? তাহলের এর উত্তরের জন্য দুবার ভাবতে হয়। সাধারনত লাজুক প্রকৃতির মানুষের বই বেশি পড়ে। আবার যারা একবার বই পড়ার মোহে ডুবে যায় তাদের নেশা হয়ে দাঁড়...