মঙ্গলবার
০৭/০৭/২০২০
রাত ০৯ঃ৪০ মিনিট
ব্ল্যাক আমেরিকান মুসলিমের মধ্যে সবার আগে মোহাম্মাদ আলীর নাম আসবে। মোহাম্মাদ আলীর বক্সিং ছাড়াও তাঁর ইন্টারভিউ গুলো ঘন্টার পর ঘন্টা বসে দেখি কোনো রকমের বিরক্তি ছাড়াই। শব্দ নিয়ে এতো সুন্দরভাবে খেলতে তাঁর মতো আর দ্বিতীয় কাউকে দেখি নাই। ব্লাক আমেরিকান কমিউনিটিতে মোহাম্মাদ আলীর মতো মুসলিম ইনফ্লুয়েন্সার আর কাউকে তেমন দেখা যায় না। কিন্তু তাঁর আগে একজন মুসলিম লিডার ছিলো যার কথার ভারেই হোয়াইট এক্সট্রিমিস্টের পা থরথর করে কাঁপত। শব্দের ওজন যে কতটা ভারী হতে পারে তা তাঁর ইন্টারভিউ গুলো দেখলে বুঝা যায়। মাত্র ৪০ বছরে যে কারিশমা দেখায় গেছে তা আজও ব্লাক আমেরিকানরা শ্রদ্ধা ভরে স্বরন করে।
ছোট থেকে পড়ে আসছি শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড কিন্তু শিক্ষাই যে আবার ভবিষ্যতের পাসপোর্ট এইটা জানছিলাম ম্যালকম এক্স সম্পর্কে জানতে গিয়া। আজকের দিনে ইনফ্লুয়েন্সার আর ইন্সপাইরেশন শব্দ দুটা খুব সস্তা হয়ে গেছে। তবে এই লোকটা যে কারোর ট্রু ইন্সপাইরেশন হতে পারে এটা হলফ করে বলতে পারি। মাদক-ডাকাতির দায়ে মাত্র ১০ বছর বয়সে জেলে যায় আর এই অন্ধকার কূপেই তাঁর পুরা লাইফ চেঞ্জ হয়ে যায়। মালিক ই সাবাজ থেকে হয়ে উঠে ম্যালকম এক্স। সৌদি আরবের বাদশাহ ফয়সালের আমন্ত্রনে ১৯৬৪ সালে হজ্জ করতে মক্কায় যায় আর সেখানে মুসলিমদের ভ্রাতৃত্ববোধ দেখে এক অশ্রুসিক্ত চিঠি লিখে। সে সময়ের সব টিভি এঙ্করা ম্যালকম এক্সের সামনে ডিবেট করতে ভয় পেত, তুলোধুনো করে ছেড়ে দিত সবাইকে। ব্রিটিশ টিভি থেকে সিএনেন সবার। ড্রাগস এডাল্টারি রেসিজম স্লেভারি যে আমেরিকান রন্ধে রন্ধে ঢুকে আছে, আর এগুলো নিয়ে তাদের সাধু সাজার হিপোক্রেসি এসব মিডিয়ায় সে এক্সপোজ করেছিলো। মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের সময় জন্মায়ছিলো বলে মানুষ আজ তাকে চেনে না বললেই চলে।
এতো বকবক করা কারন হলো ম্যালকম এক্সের বায়োপিক মুভি আছে। নাম চরিত্রে অভিনয় করছে দেঞ্জেল ওয়াশিংটন। পুরো মুভি আমি হা করে বসে দেখছি। ম্যালকম এক্সের বর্ণাঢ্য জীবনের জন্য না, দেঞ্জেল ওয়াশিংটনের অভিনয় দেখে। লাইফে অনেক অনেক বায়োপিক মুভি দেখছি কিন্তু এই মুভিতে দেঞ্জেল ওয়াশিংটনের এক্টিং ছিলো অন্য লেভেলের। আপ টু দ্যা মার্ক নয় আপ টু দ্যাআআআ মার্ক। ওয়ান সিঙ্গেল সিনের জন্য মনে হয় নাই এটা ম্যালকম এক্স না দেঞ্জেল ওয়াশিংটন। খাইতেছে, বসতেছে, কথা বলতেছে, স্পিচগুলো, ডিবেট সব সব খাপে খাপ ছিলো। এতো সাবলীল অভিনয় আমি আমার লাইফে অন্য কাউকে করতে দেখি নাই। এতোদিনে আমার মনে হইছে নাহ বায়োপিকে এক্টিং এমন হওয়া উচিত। বাকিগুলো সব ফাও।
ম্যালকম এক্স মাই ইন্সপাইরেশন। তো বলব না ম্যালকম এক্স সম্পর্কে জানতে মুভি দেখেন। কারন মুভিতে কিচ্ছু নাই, রকমারীতে বায়োগ্রাফিটা পাবেন ৬/৭শ টাকা মেবি, পড়েন হাজারটা ব্যাপারে জানতে পারবেন, চোখ খুলে যাবে আপনার। আর আমি কয়েকটা ইউটিউব ভিডিও লিংক দিতেছি এগুলা দেখলে মোটামুটি আইডিয়া পাবেন, বিশেষ করে শাইখ হামজা ইউসুফের স্পিচগুলো।
আক্বি আবু বক্বরের ন্যারেশনে চিঠিটি ইউটিউবেঃ
শাইখ হামজা ইউসুফের স্পিচ ম্যালকম এক্স সম্পর্কেঃ
ম্যালকম এক্সের ইন্টারভিউঃ
ম্যালকম এক্স সম্পর্কে মোহাম্মাদ আলীঃ

Comments
Post a Comment