Skip to main content

টিকটক vs ইউটিউব এবং আমার অভিমত

সোমবার
১৮ মে ২০২০
রাত ১১ঃ৩০

রোস্টিং, কমেডি আর বুলিং এর মাঝে অনেক বড় তফাৎ আছে। আমার অভিমত এক কথায় প্রকাশ করবার মতো না। অনেকদিন যাবত এই ইউটিউব কমিউনিটির সাথে আছে তাই এদের নাড়ি-নক্ষত্র সব জানি এবং বুঝি। যদিও আমি এসব না দেখি, এসব নিয়ে না মাতামাতি করি। ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে এক বন্ধুর মেসেজ পেয়ে ক্যারিমিনাটির ভিডিওটি দেখেছিলাম।




অত্যন্ত নিম্নমানের সস্তা পচাঁবস্তা সব জোক্সে ভরপুর ছিলো রোস্ট ভিডিওটি। পাঞ্চ লাইন বলতে ছিলো ২০০ টাকায় মিস্টির দোকানে বিক্রি আর মোটাকে মোটা বলার স্বাধীনতা। ভারতীয় আরেক ইউটিউবার সায়মন সে'স এর কয়েকদিন আগে একই টপিকে ভিডিও দেখেছিলাম। অথচ এক সপ্তাহ পর ক্যারির এই ভিডিওটি ভাইরাল হয়। আর এর পেছনে অনেকগুলো কারন আছে। এদিকটায় না যাই, আমার অভিমত নিয়েই কথা বলি।

একটা বেপার বোঝার চেষ্টা করুন, সাধারণ মানুষের মাঝে কি পরিমাণ ঘৃণার সৃষ্টি করলে 4.5 রেটিং পাওয়া কোনো এপস কোনো লেজিট কারণ ছাড়া রাতারাতি 2.6 রেটিং-এ নেমে আসে। আজকের দিনের সেলিব্রেটি এই টিকটকার-ইউটিউবারেরা। এরাই সাধারণ মানুষকে ইনফ্লুয়েন্স করতেছে। একটা রিভিউ পড়ে যেমন আমরা বই পড়ি, সিনেমা দেখি। একইভাবে এদের অপিনিয়ন আমাদের ইনফ্লুয়েন্স করে। সাধারণ মানুষের এতো সময় নেই স্বাধীনভাবে চিন্তা করার। তাই আমরা কোথাকার কোনো এক ইনফ্লুয়েন্সারের কথায় কোনো এপসের রেটিং ১ দিয়ে আসি, রাতবিরাতে মারতে যাই, সোসাল মিডিয়ার কমেন্টে হিজরা বলে গালি দেই। আর হিজরা যে একটা গালি সেটারো পারমিট দিয়ে আসি। বাহ!

ভাই ক্রিঞ্জ কন্টেন্ট বানানোর জন্য একটা মানুষের মানুষ হওয়ার অধিকার আপনি কখনোই কেড়ে নিতে পারেন না। সোসাল মিডিয়ায় বুলি করতে পারেন না। রাস্তাঘাটে তাদের হিজরা বলে ডাকতে পারেন না। যদি এগুলো পারেনই তাহলে মনুষ্যত্ব কোথায় গেলো? আপনি স্কুল কলেজে অন্য কোথাও বুলি হয়েছেন? র‍্যাগিং-বুলিং এর রেশ একটা মানুষের মাঝে অনেকদিন পর্যন্ত থেকে যায়। এই ট্রমা থেকে অনেকে বের হতে পারে না। এই একটা জিনিস পুরো লাইফ বরবাদ করে দেয়। কেউ কেউ তো আত্মহত্যা পর্যন্ত করে ফেলে।

টিকটকারদের আলাদাই দুনিয়া আছে। ইউটিউবে কন্টেন্ট বানানো যেমন ফিল্ম মেকিং এর মধ্যে পরে না, ইন্সটাগ্রাম ফটোগ্রাফের জন্য না তেমনি টিকটক আলাদা একটা প্লাটফর্ম। এই জায়গাটা অনেক ছোট শহরের মানুষদের বিনোদনের উৎস। 

দুই চার টাকা কামানো আর স্রোতে গা ভাসিয়ে নিজের বিবেককে প্রশ্নবিদ্ধ করা অন্তত আমার ডিকশনারীতে লিখা নেই। সত্য কথা বলতে টিকটক ক্রিঞ্জের চেয়েও বড় ক্রিঞ্জ এখন ক্যারিমিনাটির এই ইস্যুটি হয়ে দাড়িয়েছে।

Comments

Popular posts from this blog

প্রথম ইউটিউব ভিডিও যেমন হওয়া উচিৎ

একজন ইউটিউবারে প্রথম ভিডিও স্পেশাল হওয়া উচিত। চাকুরির প্রথমদিন স্পেশাল হওয়া উচিত। প্রিয়তমার প্রথম সাক্ষাত স্পেশাল হওয়া উচিত। প্রথম বেতনে কেনা জিনিসটিও স্পেশাল হওয়া উচিত। আসলে আমাদের প্রথম যে কোনো কিছুই স্পেশাল বা বিশেষ হওয়া উচিত কারণ এটি প্রথম এখান থেকেই শুরু… ব্রিটিশ আমেরিকান মোটিভেশনাল স্পিকার ও লেখক সাইমন সিনেকের " Start With Why "  বইটি পড়েছিলাম। সেখানে সাইমন সিনেক স্টিভ জবসের এ্যপল থেকে শুরু করে রাইট ভ্রাতাদ্বয়ের বিমান উড়ানো নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। তিনি W-H-W অর্থ্যাত What How Why ফর্মুলা বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেছিলেন যে দুনিয়ার যত কোম্পানি/স্টার্টাপ বা বিজনেস সেরা ও সফল হয়েছে তাদের মূলে ছিলো  'কেন'।  প্রোডাক্ট বা  কি  সবাই বিক্রি করে, মোটামুটি সবারই   কিভাবে  বা বিজনেস স্ট্র্যাটেজি একই কিন্তু যারা সফল হয়েছে তাদের সবার  কেন-টা   ভিন্ন ছিলো। ইউটিউবে একটি ভিডিও আপলোড করে সফলতা পাওয়া আষাঢের গল্পের মতো শোনায়। ইউটিউবে সফলতার একমাত্র পথ কন্সিসট্যান্সি বা ধারাবাহিকতা। আপনি দিনক্ষণ মেনে ভিডিও আপলোড করে যান সফলতা আসবে। অনেকে একটি দুইটি তিনটি ভিডিও ...

নিক নেমনামা

মঙ্গলবার রাত ৮ঃ৪৫ ২৮ জানুয়ারী ২০২০ অন্যসব দেশে কি হয় জানি না তবে আমাদের দেশে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাদের আসল নামের সাথে কোনো ব্যাঙ্গাত্মক নাম নেই। এই ব্যাঙ্গাত্মক ডাকনামের সংস্কৃতির উৎপত্তি কোথায় আমার জানা নেই। আর দুনিয়ায় এমন কিছু মানুষ যারা পথে-ঘাটে, জলে-স্থলে, শহরে-বন্দরে, বন্ধু-গফ যে কোনো জায়গায় ঐ নাম ছাড়া অন্য নামে ডাকে না। স্কুল-কলেজে এমন এক বন্ধু পাবেন যে সবার নামের আকিকা করে থাকে। কলেজে এই রোল আমিও প্লে করছি। অনেকের নাম আমার দেয়া। কিন্তু হুট করে একদিন আমার নামকরণ করা হলো মাইকেল। মুনতাসির থেকে মাইকেল। wtf… ভাই দিবি ভালো নাম দে। কি একটা ক্ষ্যাত নাম দিছিস (সেসময়কার ভাবনা)। কলেজে ক্রিকেট মোটামুটি খেলতাম। ঐসময় অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন ছিলো মাইকেল ক্লার্ক। উহু, সবার সামনে যখন বন্ধুরা এই নামে ডাকত, যখন অকওয়ার্ড ফিল করতাম তখন নিজেকে মিস্টার ক্যাপ্টেন ভেবে কুল থাকার চেষ্টা করতাম। পাগলের সুখ মনে মনে যাকে বলে আরকি। পোস্টারটি আমার করা জ্যাক স্প্যারো ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো পাইরেটস অব দ্য ক্যারাবীয়ান সিরিজ ও ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারোর অনেক বড় ফ্যান আমি। সেই সুব...

কেন বই পড়ি

রবিবার রাত ২ঃ০০ ২৬ জানুয়ারি প্র মথ চৌধুরির কাছে বই পড়া শখটা মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ শখ হলেও তিনি কাউকে শখ হিসেবে বই পড়তে পরামর্শ দিতেন না। কিন্তু আমি যতটুকু বই পড়ি শখের বসেই পড়ি। তবে আমাকে বই পড়তে যে মাহমুদুল শিখিয়েছে তা অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই। বন্ধু হিসেবে বিচার করবার আগে আমার বিবেক তার এই ঋণের কথা বারবার স্বরণ করিয়ে দেয়। যদ্দুর মনে পড়ে ওর কাছ থেকে নেওয়া রবিনসন ক্রুশ দিয়ে বই পড়া শুরু, তারপর পড়েছিলাম থ্রি কমরেড। এই বইয়ের কাছে জিন্দেগী না মিলেগী দোবারা কিংবা দিল চাহতা হে সিনেমার গল্প ফিকে পড়ে যায়। Photo by  Eliabe Costa  on  Unsplash প্রায় শুনতে পাওয়া যায় মানুষ বই কেনো পড়ে কেনো? ওয়ারেন বাফেট দিনে ৫ থেকে ৬ ঘন্টা ব্যয় করেন ৫টি পত্রিকা এবং অন্তত ৫০০ পৃষ্টার করপোরেট রিপোর্ট, ম্যাগাজিন পড়তে। তো সোজাসাপ্টা উত্তর জ্ঞানার্জনের জন্য। যে কারোরই বই পড়ার মুখ্য উদ্দেশ্য জ্ঞানার্জন। তবে যদি পাল্টা প্রশ্ন আসে যে সাহিত্য পড়ে কেনো? তাহলের এর উত্তরের জন্য দুবার ভাবতে হয়। সাধারনত লাজুক প্রকৃতির মানুষের বই বেশি পড়ে। আবার যারা একবার বই পড়ার মোহে ডুবে যায় তাদের নেশা হয়ে দাঁড়...