Skip to main content

লকডাউন-২

বৃহঃস্পতিবার
রাতঃ ১১ঃ০০
০৯ মার্চ ২০২০

পুরো বিশ্ব একটা দুর্যোগকালীন সময়ের মধ্য দিয়ে আচ্ছে। বেশিভাগ দেশের সরকার লকডাউন ঘোষনা করেছে, জনগনকে ঘরে থাকতে বলছে। চারিদিকে হাহাকার, আতংক আর মৃত্যু মিছিল। 
বেপারটা যে সবার জন্য একই তা কিন্তু না। বাংলা প্রবাদ আছে কারও পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ। আমেরিকা, ইতালী, স্পেন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানী, ইরান ছাড়াও আরও অনেক দেশের সর্বনাশ গেলেও উপমহাদেশীয় সেলিব্রেটিদের পৌষ মাস যাচ্ছে। কেউ কেউ চুল কেটে নিচ্ছে, তো কেউ ছাদে বসে প্রেম নিবেদন করছে, আবার কেউ বউয়ের কাছে নতুন নতুন রেসিপি শিখছে, পরিবার নিয়ে লুডু স্টার খেলার ছবিও সোসাল মিডিয়ায় আপলোড হচ্ছে। বড় বড় শহরের মানুশেরা বাসার বেলকুনিতে এসে এক সাথে গাইছে প্রিয় গান। বেল্লা চাও থেকে বোহেমিয়ান রেপসোডি কিংবা দেশীয় ভাষার গানগুলো। কোয়েন্টাইনে ডিজে পার্টিও চলছে সমানে। 

আর আমাদের দেশের চিত্র ভিন্ন। মুর্খ, অশিক্ষিত আর অর্ধশিক্ষিতের দেশে যাদের শিক্ষা আছে তারাও সচেতন নয়। হাটে বাজারে গঞ্জে গিয়ে দুটো কাপ চা আর বিড়ি না ফুকালে দিন কাটে না আমাদের। গোল মরিচ, থানকুনি আর ডাব গাছের গোড়ায় পানি দেওয়া গুজব তো আছেই। দেশে এখনো ভয়াবহ রুপ নেয় নি করোনা ভাইরাস। তবে মহামারি আকার ধারন করতে বেশি সময় লাগবে না। 

আমার সময়টাও খারাপ যাচ্ছে না। পরিবারের সাথে সময় কাটাচ্ছি, বই পড়ছি, অনেক দিনের জমিয়ে রাখা হাতের কাজ গুলো সেরে নিচ্ছি। সবচেয়ে ভালো লাগছে কায়িক শ্রম। বাড়ির পেছ  দিকে লাউ, কুমড়া, শসা, ঢেরস, তরাই, পেঁপের গাছ লাগিয়েছি। অনেকদিন কোদাল চোটানো হয় না, বালতি বালতি পানি গাছে দেওয়া হত না। অবসরে এই কাজ গুলো করা হচ্ছে। হাতে বার বার ফোসা পড়ছে, কেটে যাচ্ছে, ছিড়ে যাচ্ছে তবুও ভালো লাগছে কাজগুলো করতে। এক কথায় গ্রামীণ জীবন দারুণ উপভোগ করছি। আমার বেড়ে উঠা এগুলোর মধ্য দিয়েই।  অনেকদিনে না করায় এক ধরনের মরচে ধরে গেছে বলা যায়। 

দেশে গত ৩ দিনে প্রায় দু’শ জনের পরিক্ষায় করোনা পজেটিভ ধরা পড়েছে। আল্লাহর ইচ্ছায় আমার পরিচিত কারো নাম শোনা যায় নি তবে আগামীতে যে এমন হবে না তা বলা মুশকিল। সামনের  দুই তিন মাস খুব কঠিন যাবে আমাদের সবার। এর থেকে উত্তরণ পেতে চাইলে আমাদের নিজেদের কে এগিয়ে আসা উচিত। করোনা সচেতনতার পাশাপাশি অবসরকে কাজে লাগিয়ে আমাদের কিছু ছোট ছোট কাজ করা উচিত। যেমন, আগামীতে যে শস্যদ্রব্যের ঘাটতি দেখা দিবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এই আপদকালীন সময়ে আমাদের নিজেদের বাসার ফাঁকা জায়গায় সবজি লাগাতে পারি। এছাড়া নতুন কোনো স্কিল শিখে নিলে যা আগামীতে কাজে আসবে। স্কিল যে শুধু কম্পিউটার সম্পর্কিত হবে তা কিন্তু না। আমি যেমন দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি সবজি চাষসহ রান্না-বান্না শিখে নিচ্ছি। আবার আগের স্কিলগুলো ঝালিয়ে নেওয়া এবং এগুলো এডভান্স লেভেলে নিয়ে যাব বলে ভেবেছি। 

সব মিলিয়ে করোনা অভিশাপ হলেও এর অনেক পজেটিভ দিক আছে। যা আমাদের সকলের উচিত এগুলোর চর্চা করে সামনের দিন যাতে সুখের হয় তা সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করা। 

Comments

Popular posts from this blog

প্রথম ইউটিউব ভিডিও যেমন হওয়া উচিৎ

একজন ইউটিউবারে প্রথম ভিডিও স্পেশাল হওয়া উচিত। চাকুরির প্রথমদিন স্পেশাল হওয়া উচিত। প্রিয়তমার প্রথম সাক্ষাত স্পেশাল হওয়া উচিত। প্রথম বেতনে কেনা জিনিসটিও স্পেশাল হওয়া উচিত। আসলে আমাদের প্রথম যে কোনো কিছুই স্পেশাল বা বিশেষ হওয়া উচিত কারণ এটি প্রথম এখান থেকেই শুরু… ব্রিটিশ আমেরিকান মোটিভেশনাল স্পিকার ও লেখক সাইমন সিনেকের " Start With Why "  বইটি পড়েছিলাম। সেখানে সাইমন সিনেক স্টিভ জবসের এ্যপল থেকে শুরু করে রাইট ভ্রাতাদ্বয়ের বিমান উড়ানো নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। তিনি W-H-W অর্থ্যাত What How Why ফর্মুলা বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেছিলেন যে দুনিয়ার যত কোম্পানি/স্টার্টাপ বা বিজনেস সেরা ও সফল হয়েছে তাদের মূলে ছিলো  'কেন'।  প্রোডাক্ট বা  কি  সবাই বিক্রি করে, মোটামুটি সবারই   কিভাবে  বা বিজনেস স্ট্র্যাটেজি একই কিন্তু যারা সফল হয়েছে তাদের সবার  কেন-টা   ভিন্ন ছিলো। ইউটিউবে একটি ভিডিও আপলোড করে সফলতা পাওয়া আষাঢের গল্পের মতো শোনায়। ইউটিউবে সফলতার একমাত্র পথ কন্সিসট্যান্সি বা ধারাবাহিকতা। আপনি দিনক্ষণ মেনে ভিডিও আপলোড করে যান সফলতা আসবে। অনেকে একটি দুইটি তিনটি ভিডিও ...

নিক নেমনামা

মঙ্গলবার রাত ৮ঃ৪৫ ২৮ জানুয়ারী ২০২০ অন্যসব দেশে কি হয় জানি না তবে আমাদের দেশে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাদের আসল নামের সাথে কোনো ব্যাঙ্গাত্মক নাম নেই। এই ব্যাঙ্গাত্মক ডাকনামের সংস্কৃতির উৎপত্তি কোথায় আমার জানা নেই। আর দুনিয়ায় এমন কিছু মানুষ যারা পথে-ঘাটে, জলে-স্থলে, শহরে-বন্দরে, বন্ধু-গফ যে কোনো জায়গায় ঐ নাম ছাড়া অন্য নামে ডাকে না। স্কুল-কলেজে এমন এক বন্ধু পাবেন যে সবার নামের আকিকা করে থাকে। কলেজে এই রোল আমিও প্লে করছি। অনেকের নাম আমার দেয়া। কিন্তু হুট করে একদিন আমার নামকরণ করা হলো মাইকেল। মুনতাসির থেকে মাইকেল। wtf… ভাই দিবি ভালো নাম দে। কি একটা ক্ষ্যাত নাম দিছিস (সেসময়কার ভাবনা)। কলেজে ক্রিকেট মোটামুটি খেলতাম। ঐসময় অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন ছিলো মাইকেল ক্লার্ক। উহু, সবার সামনে যখন বন্ধুরা এই নামে ডাকত, যখন অকওয়ার্ড ফিল করতাম তখন নিজেকে মিস্টার ক্যাপ্টেন ভেবে কুল থাকার চেষ্টা করতাম। পাগলের সুখ মনে মনে যাকে বলে আরকি। পোস্টারটি আমার করা জ্যাক স্প্যারো ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো পাইরেটস অব দ্য ক্যারাবীয়ান সিরিজ ও ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারোর অনেক বড় ফ্যান আমি। সেই সুব...

কেন বই পড়ি

রবিবার রাত ২ঃ০০ ২৬ জানুয়ারি প্র মথ চৌধুরির কাছে বই পড়া শখটা মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ শখ হলেও তিনি কাউকে শখ হিসেবে বই পড়তে পরামর্শ দিতেন না। কিন্তু আমি যতটুকু বই পড়ি শখের বসেই পড়ি। তবে আমাকে বই পড়তে যে মাহমুদুল শিখিয়েছে তা অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই। বন্ধু হিসেবে বিচার করবার আগে আমার বিবেক তার এই ঋণের কথা বারবার স্বরণ করিয়ে দেয়। যদ্দুর মনে পড়ে ওর কাছ থেকে নেওয়া রবিনসন ক্রুশ দিয়ে বই পড়া শুরু, তারপর পড়েছিলাম থ্রি কমরেড। এই বইয়ের কাছে জিন্দেগী না মিলেগী দোবারা কিংবা দিল চাহতা হে সিনেমার গল্প ফিকে পড়ে যায়। Photo by  Eliabe Costa  on  Unsplash প্রায় শুনতে পাওয়া যায় মানুষ বই কেনো পড়ে কেনো? ওয়ারেন বাফেট দিনে ৫ থেকে ৬ ঘন্টা ব্যয় করেন ৫টি পত্রিকা এবং অন্তত ৫০০ পৃষ্টার করপোরেট রিপোর্ট, ম্যাগাজিন পড়তে। তো সোজাসাপ্টা উত্তর জ্ঞানার্জনের জন্য। যে কারোরই বই পড়ার মুখ্য উদ্দেশ্য জ্ঞানার্জন। তবে যদি পাল্টা প্রশ্ন আসে যে সাহিত্য পড়ে কেনো? তাহলের এর উত্তরের জন্য দুবার ভাবতে হয়। সাধারনত লাজুক প্রকৃতির মানুষের বই বেশি পড়ে। আবার যারা একবার বই পড়ার মোহে ডুবে যায় তাদের নেশা হয়ে দাঁড়...