Skip to main content

অজ্ঞাতনামা - পরিচয়হীন লাশের গল্প

শনিবার
বিকেল ৫ঃ৩০
১৮ জানুয়ারী ২০২০

তৌকির আহমদের পরিচালিত “দারু চিনির দ্বীপ” এর পর আমার দেখা দ্বিতীয় সিনেমা অজ্ঞাতনামা। অজ্ঞাতনামা শুধু একটি সিনেমা নয় একটি দর্পন, সমাজের দর্পণ। আমাদের সমাজে দেখা অদেখা অনেক ছোট বড় ঘটনাই চলে যায় লোকচক্ষুর আড়ালে। মানব পাচারকারী দালালদের নানা প্রলোভনে ফেঁসে জীবিকার তাগিদে দু চার পয়সা কামানোর জন্য এক বুক স্বপ্ন নিয়ে যারা নিজের সর্বস্ব উজার করে বিদেশের মাটিতে পাড়ি জমায় তাদের বেশির ভাগেরই কপালে জোটে অমানবিক অত্যাচার, এমনকি সেখানে তাদের নিজের নাম , পরিচয়টাও কখনো গোপন করতে হয়। তাদের খোঁজ-খবর কেউ রাখে না। না স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, না পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, না শ্রম মন্ত্রণালয়, না প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, না সেই দালাল। এমনি এক পরিচয়হীন লাশের গল্প নিয়ে নির্মিত “অজ্ঞাতনামা”।



প্রথমত বলব অজ্ঞাতনামায় শুধু কমতি ছিলো বাজেটের। যার কারনে টেকনিক্যাল দিকটা একটু দুর্বল এবং প্রচারনা নাই বললেই চলে তবে সিনেমাটোগ্রাফী, ডায়লগ, অভিনয় ফাটাফাটি। এদিকে অভিনয়ে ফজলুর রহমান বাবু অজ্ঞাতনামায় নিজের জাত চিনিয়ে দিয়েছেন। তার মুখের এক্সপ্রেশন রীতিমত বিস্ময়কর ছিলো। এক কথায় অসাধারন অভিনয় । শহীদুজ্জামান সেলিম দালালের চরিত্রে বেশ মানিয়েছে। আর মোশারফ করিমের সাথে তার লড়াই এমন চরম হৃদয়স্পর্শী সিনেমাতে আপনাকে কখনো অস্বস্থি বোধ করাবে না। মোশাররফ করীমের কমেডি বেশ উপভোগ্য ছিল। শতাব্দী ওয়াদুদের জন্মই হইছে বোধায় পুলিশ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য :P পুলিশ চরিত্রে তার বিকল্প আর কাউকে দেখি না। নিপুনও নিজের চরিত্রে ভালো করেছে।



এককথায় বলা যায়, চিত্রনাট্য এবং অভিনয়ের কারনেও এ ছবি প্রশংসা দাবী করে। গ্রাম বাংলার নদ-নদী, ফসলী জমি, গ্রাম্য পরিবেশ, ঝুম বৃষ্টিতে নৌকা ভ্রমণ, মোটামুটি সব লোকেশনই প্রাণ জুড়িয়ে দেয়। কম সময়ে এতোকিছু খুব সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তৌকির আহমদ। অজ্ঞাতনামার মতো কালে ভদ্রে নির্মিত কমার্সিয়াল সিনেমাগুলো ঠিকভাবে ব্যবসা না করতে পারলেও সিনেমা প্রেমীদের কাছে নিজের পরিচয় ঠিকই চিনিয়ে যায়। আশা রাখি এমন অসাধারন সিনেমা নির্মাণে আবারও আমাদের দেশে সিনেমা ইন্ড্রাস্ট্রিজ নিজের জায়গায় উঠে দাঁড়াবে।



মুভি রিভিউটি ২০১৭ সালে লিখেছিলাম। ফজলুর রহমান বাবুর এক্সপ্রেশন গুলো দেখে মনের অজান্তে চোখের কোণে পানি চলে এসেছিলো। এমন সিনেমা দেখতে সাহস লাগে, কলিজায় দম থাকা লাগে।

লিংক ইউটিউবে পাবেন।

Comments

Popular posts from this blog

প্রথম ইউটিউব ভিডিও যেমন হওয়া উচিৎ

একজন ইউটিউবারে প্রথম ভিডিও স্পেশাল হওয়া উচিত। চাকুরির প্রথমদিন স্পেশাল হওয়া উচিত। প্রিয়তমার প্রথম সাক্ষাত স্পেশাল হওয়া উচিত। প্রথম বেতনে কেনা জিনিসটিও স্পেশাল হওয়া উচিত। আসলে আমাদের প্রথম যে কোনো কিছুই স্পেশাল বা বিশেষ হওয়া উচিত কারণ এটি প্রথম এখান থেকেই শুরু… ব্রিটিশ আমেরিকান মোটিভেশনাল স্পিকার ও লেখক সাইমন সিনেকের " Start With Why "  বইটি পড়েছিলাম। সেখানে সাইমন সিনেক স্টিভ জবসের এ্যপল থেকে শুরু করে রাইট ভ্রাতাদ্বয়ের বিমান উড়ানো নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। তিনি W-H-W অর্থ্যাত What How Why ফর্মুলা বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেছিলেন যে দুনিয়ার যত কোম্পানি/স্টার্টাপ বা বিজনেস সেরা ও সফল হয়েছে তাদের মূলে ছিলো  'কেন'।  প্রোডাক্ট বা  কি  সবাই বিক্রি করে, মোটামুটি সবারই   কিভাবে  বা বিজনেস স্ট্র্যাটেজি একই কিন্তু যারা সফল হয়েছে তাদের সবার  কেন-টা   ভিন্ন ছিলো। ইউটিউবে একটি ভিডিও আপলোড করে সফলতা পাওয়া আষাঢের গল্পের মতো শোনায়। ইউটিউবে সফলতার একমাত্র পথ কন্সিসট্যান্সি বা ধারাবাহিকতা। আপনি দিনক্ষণ মেনে ভিডিও আপলোড করে যান সফলতা আসবে। অনেকে একটি দুইটি তিনটি ভিডিও ...

নিক নেমনামা

মঙ্গলবার রাত ৮ঃ৪৫ ২৮ জানুয়ারী ২০২০ অন্যসব দেশে কি হয় জানি না তবে আমাদের দেশে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাদের আসল নামের সাথে কোনো ব্যাঙ্গাত্মক নাম নেই। এই ব্যাঙ্গাত্মক ডাকনামের সংস্কৃতির উৎপত্তি কোথায় আমার জানা নেই। আর দুনিয়ায় এমন কিছু মানুষ যারা পথে-ঘাটে, জলে-স্থলে, শহরে-বন্দরে, বন্ধু-গফ যে কোনো জায়গায় ঐ নাম ছাড়া অন্য নামে ডাকে না। স্কুল-কলেজে এমন এক বন্ধু পাবেন যে সবার নামের আকিকা করে থাকে। কলেজে এই রোল আমিও প্লে করছি। অনেকের নাম আমার দেয়া। কিন্তু হুট করে একদিন আমার নামকরণ করা হলো মাইকেল। মুনতাসির থেকে মাইকেল। wtf… ভাই দিবি ভালো নাম দে। কি একটা ক্ষ্যাত নাম দিছিস (সেসময়কার ভাবনা)। কলেজে ক্রিকেট মোটামুটি খেলতাম। ঐসময় অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন ছিলো মাইকেল ক্লার্ক। উহু, সবার সামনে যখন বন্ধুরা এই নামে ডাকত, যখন অকওয়ার্ড ফিল করতাম তখন নিজেকে মিস্টার ক্যাপ্টেন ভেবে কুল থাকার চেষ্টা করতাম। পাগলের সুখ মনে মনে যাকে বলে আরকি। পোস্টারটি আমার করা জ্যাক স্প্যারো ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো পাইরেটস অব দ্য ক্যারাবীয়ান সিরিজ ও ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারোর অনেক বড় ফ্যান আমি। সেই সুব...

কেন বই পড়ি

রবিবার রাত ২ঃ০০ ২৬ জানুয়ারি প্র মথ চৌধুরির কাছে বই পড়া শখটা মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ শখ হলেও তিনি কাউকে শখ হিসেবে বই পড়তে পরামর্শ দিতেন না। কিন্তু আমি যতটুকু বই পড়ি শখের বসেই পড়ি। তবে আমাকে বই পড়তে যে মাহমুদুল শিখিয়েছে তা অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই। বন্ধু হিসেবে বিচার করবার আগে আমার বিবেক তার এই ঋণের কথা বারবার স্বরণ করিয়ে দেয়। যদ্দুর মনে পড়ে ওর কাছ থেকে নেওয়া রবিনসন ক্রুশ দিয়ে বই পড়া শুরু, তারপর পড়েছিলাম থ্রি কমরেড। এই বইয়ের কাছে জিন্দেগী না মিলেগী দোবারা কিংবা দিল চাহতা হে সিনেমার গল্প ফিকে পড়ে যায়। Photo by  Eliabe Costa  on  Unsplash প্রায় শুনতে পাওয়া যায় মানুষ বই কেনো পড়ে কেনো? ওয়ারেন বাফেট দিনে ৫ থেকে ৬ ঘন্টা ব্যয় করেন ৫টি পত্রিকা এবং অন্তত ৫০০ পৃষ্টার করপোরেট রিপোর্ট, ম্যাগাজিন পড়তে। তো সোজাসাপ্টা উত্তর জ্ঞানার্জনের জন্য। যে কারোরই বই পড়ার মুখ্য উদ্দেশ্য জ্ঞানার্জন। তবে যদি পাল্টা প্রশ্ন আসে যে সাহিত্য পড়ে কেনো? তাহলের এর উত্তরের জন্য দুবার ভাবতে হয়। সাধারনত লাজুক প্রকৃতির মানুষের বই বেশি পড়ে। আবার যারা একবার বই পড়ার মোহে ডুবে যায় তাদের নেশা হয়ে দাঁড়...