Skip to main content

লেখা-লিখি

শুক্রবার
রাত ১০ঃ৩৫
২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০

আমি বই পড়ব বলে পড়ি না আবার ভালো লাগে বলেও পড়ি না। বই পড়ার সাথে আমার এক অদ্ভুত রকমের সম্পর্ক আছে। শুরু করব বিখ্যাত লেখক জর্জ আর আর মার্টিনের একটা কথা নিয়ে। “A reader lives a thousand lives before he dies, The man who never reads lives only one.” এর বাংলা তর্জমা করলে কিছুটা এমন দাঁড়ায় যে, একজন পাঠক তার মৃত্যুর আগে হাজারটা মানুষের জীবন যাপন করে। আর যে বই পড়ে না সে শুধু একবারই বাঁচে। আবার বলা হয় বই পড়লে নাকি একজন মানুষের কল্পনা শক্তি বাড়ে। এতে করে সৃজনীচিন্তা মাথায় আসে। আর এদিকে জ্ঞানের ভান্ডার বৃদ্ধি করতে বইয়ের কোনো বিকল্প নেই।

Photo by Iryna Tysiak on Unsplash
উপরের কথাগুলো সবখানেই শোনা যায়। কিন্তু লিখালিখি নিয়ে তেমন কেউ কথা বলে না। এর কারন হয়ত, যে কেউ চাইলেই পাঠক হয়ে যেতে পারে কিন্তু লেখক হওয়াটা সাধনার বেপার। আমি লিখালিখি করি লেখক হওয়ার জন্য না। আমি যখন শুধু ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিতাম তখনও দুই তিন লাইন লিখতে ঘাম ঝরাতে হত। অনেক চিন্তা করতে হত, অনেক ভাবতে হত, অনেক কারেকশন করতে হত শুধু ফেসবুক পোস্টের কারনে। খোশ-গল্প বা আড্ডা ছিলো মাত্র কয়েকটা শব্দের মাঝে। এই সীমাবদ্ধতা ভেঙ্গে বের হয়ে আসতে বই পড়া যতটা না আমার সাহায্য করেছে তার চেয়ে কয়েক গুন বেশী সাহায্য করেছে লিখালিখির নিয়মিত চর্চা।

আগে বাংলা-হিন্দি-ইংরেজী মিশিয়ে কথা বলতাম। কারণ মনে ভাব প্রকাশ করতে যা মাথায় আসে তাই মুখ থেকে বের হয়ে যায়। ভেবে দেখার সময় থাকে না। কথা ভালো ছিলো নাকি খারাপ তা যাচায়ের কোনো পথ থাকে না। কিন্তু আপনি যা বলতে চান তা লিখলে বারবার চোখের সামনে আসে আর বারবার ভিজ্যুয়ালাইজ হয়, লেখাগুলো আপনাকে ভাবায় এবং কথাগুলো ঠিক কিনা তার জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হয়। বেপার গুলো একটা প্রসেসের মধ্য দিয়ে যায়। যা কথা বলার সময় হয়ে উঠে না।

এই ছোট্ট একটা পদক্ষেপ যে কারো জীবন বদলে দিতে পারে, তাকে আরেকটু স্মার্ট করে তুলতে পারে, তার কথা-বার্তায় মাধুর্যতা এনে দিতে পারে। অথচ এই বিষয়ে কেউ কথা বলে না, বলতে চায় না। আমার অভিজ্ঞতা এবং পর্যবেক্ষণ থেকে এতোটুকু উপলব্ধি যে শুধু বই পড়লেই হয় না একটু আধটু লিখালিখিও করতে হয়।

Comments

Popular posts from this blog

প্রথম ইউটিউব ভিডিও যেমন হওয়া উচিৎ

একজন ইউটিউবারে প্রথম ভিডিও স্পেশাল হওয়া উচিত। চাকুরির প্রথমদিন স্পেশাল হওয়া উচিত। প্রিয়তমার প্রথম সাক্ষাত স্পেশাল হওয়া উচিত। প্রথম বেতনে কেনা জিনিসটিও স্পেশাল হওয়া উচিত। আসলে আমাদের প্রথম যে কোনো কিছুই স্পেশাল বা বিশেষ হওয়া উচিত কারণ এটি প্রথম এখান থেকেই শুরু… ব্রিটিশ আমেরিকান মোটিভেশনাল স্পিকার ও লেখক সাইমন সিনেকের " Start With Why "  বইটি পড়েছিলাম। সেখানে সাইমন সিনেক স্টিভ জবসের এ্যপল থেকে শুরু করে রাইট ভ্রাতাদ্বয়ের বিমান উড়ানো নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। তিনি W-H-W অর্থ্যাত What How Why ফর্মুলা বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেছিলেন যে দুনিয়ার যত কোম্পানি/স্টার্টাপ বা বিজনেস সেরা ও সফল হয়েছে তাদের মূলে ছিলো  'কেন'।  প্রোডাক্ট বা  কি  সবাই বিক্রি করে, মোটামুটি সবারই   কিভাবে  বা বিজনেস স্ট্র্যাটেজি একই কিন্তু যারা সফল হয়েছে তাদের সবার  কেন-টা   ভিন্ন ছিলো। ইউটিউবে একটি ভিডিও আপলোড করে সফলতা পাওয়া আষাঢের গল্পের মতো শোনায়। ইউটিউবে সফলতার একমাত্র পথ কন্সিসট্যান্সি বা ধারাবাহিকতা। আপনি দিনক্ষণ মেনে ভিডিও আপলোড করে যান সফলতা আসবে। অনেকে একটি দুইটি তিনটি ভিডিও ...

নিক নেমনামা

মঙ্গলবার রাত ৮ঃ৪৫ ২৮ জানুয়ারী ২০২০ অন্যসব দেশে কি হয় জানি না তবে আমাদের দেশে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাদের আসল নামের সাথে কোনো ব্যাঙ্গাত্মক নাম নেই। এই ব্যাঙ্গাত্মক ডাকনামের সংস্কৃতির উৎপত্তি কোথায় আমার জানা নেই। আর দুনিয়ায় এমন কিছু মানুষ যারা পথে-ঘাটে, জলে-স্থলে, শহরে-বন্দরে, বন্ধু-গফ যে কোনো জায়গায় ঐ নাম ছাড়া অন্য নামে ডাকে না। স্কুল-কলেজে এমন এক বন্ধু পাবেন যে সবার নামের আকিকা করে থাকে। কলেজে এই রোল আমিও প্লে করছি। অনেকের নাম আমার দেয়া। কিন্তু হুট করে একদিন আমার নামকরণ করা হলো মাইকেল। মুনতাসির থেকে মাইকেল। wtf… ভাই দিবি ভালো নাম দে। কি একটা ক্ষ্যাত নাম দিছিস (সেসময়কার ভাবনা)। কলেজে ক্রিকেট মোটামুটি খেলতাম। ঐসময় অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন ছিলো মাইকেল ক্লার্ক। উহু, সবার সামনে যখন বন্ধুরা এই নামে ডাকত, যখন অকওয়ার্ড ফিল করতাম তখন নিজেকে মিস্টার ক্যাপ্টেন ভেবে কুল থাকার চেষ্টা করতাম। পাগলের সুখ মনে মনে যাকে বলে আরকি। পোস্টারটি আমার করা জ্যাক স্প্যারো ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো পাইরেটস অব দ্য ক্যারাবীয়ান সিরিজ ও ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারোর অনেক বড় ফ্যান আমি। সেই সুব...

কেন বই পড়ি

রবিবার রাত ২ঃ০০ ২৬ জানুয়ারি প্র মথ চৌধুরির কাছে বই পড়া শখটা মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ শখ হলেও তিনি কাউকে শখ হিসেবে বই পড়তে পরামর্শ দিতেন না। কিন্তু আমি যতটুকু বই পড়ি শখের বসেই পড়ি। তবে আমাকে বই পড়তে যে মাহমুদুল শিখিয়েছে তা অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই। বন্ধু হিসেবে বিচার করবার আগে আমার বিবেক তার এই ঋণের কথা বারবার স্বরণ করিয়ে দেয়। যদ্দুর মনে পড়ে ওর কাছ থেকে নেওয়া রবিনসন ক্রুশ দিয়ে বই পড়া শুরু, তারপর পড়েছিলাম থ্রি কমরেড। এই বইয়ের কাছে জিন্দেগী না মিলেগী দোবারা কিংবা দিল চাহতা হে সিনেমার গল্প ফিকে পড়ে যায়। Photo by  Eliabe Costa  on  Unsplash প্রায় শুনতে পাওয়া যায় মানুষ বই কেনো পড়ে কেনো? ওয়ারেন বাফেট দিনে ৫ থেকে ৬ ঘন্টা ব্যয় করেন ৫টি পত্রিকা এবং অন্তত ৫০০ পৃষ্টার করপোরেট রিপোর্ট, ম্যাগাজিন পড়তে। তো সোজাসাপ্টা উত্তর জ্ঞানার্জনের জন্য। যে কারোরই বই পড়ার মুখ্য উদ্দেশ্য জ্ঞানার্জন। তবে যদি পাল্টা প্রশ্ন আসে যে সাহিত্য পড়ে কেনো? তাহলের এর উত্তরের জন্য দুবার ভাবতে হয়। সাধারনত লাজুক প্রকৃতির মানুষের বই বেশি পড়ে। আবার যারা একবার বই পড়ার মোহে ডুবে যায় তাদের নেশা হয়ে দাঁড়...