শুক্রবার
সন্ধ্যা ৭ঃ০০
২১ ফ্রেব্রুয়ারী ২০২০
আমি বাংলা, হিন্দি, উর্দু, ইংলিশ সব বলি। আমার কাছে ভাষার বিশেষ কোনো বিশেষত্ব নেই, কারন এটাকে আমার অর্জন করতে হয় নি, উত্তরাধিকার সুত্রে পেয়েছি। রফিক শফিক বরকত জব্বারের কাছে বিশেষ কারন ছিলো বলেই তাঁরা এ ভাষার জন্য জীবন পর্যন্ত দিতে পেরেছিলো। ২১ শে ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হলেও আসাম সহ ভারতের কয়েকটি রাজ্যে ১৯ মে কে বাংলা ভাষা শহীদ দিবস হিসেবে পালন করা হয়। শুধু যে পাকিস্তানীরা মায়ের ভাষা, মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিলো তা কিন্তু না; ইতিহাসে এমন আরও ঘটনা আছে। পশ্চিমবঙ্গের দিকে হিন্দি ভাষার আগ্রাসন জানান দেয় ভারতীয়রাও পাকিস্তানিদের থেকে কোনো অংশে কম না। এছাড়া আসামের বরাক উপত্যকায় ১৯৬১ সালের ১৯শে মে ১১ জন জীবন দিয়েছিলো বাংলা ভাষার সম্মান রক্ষার্থে।
জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলা ভাষার অবস্থান ষষ্ঠ। আর পৃথিবীতে একমাত্র নজির যে শুধুমাত্র বাংলা ভাষাভাষী মানুষেরাই ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে। একবার নয় দু-দুবার, তো এদের থেকে ভাষার স্বাধীনতার মূল্য হয়ত ভালো কারও জানার কথা নয়। কিন্তু যে ভাষার জন্য এতো কিছু সে ভাষা-ই যদি অনলাইনে লিখতে বা পড়তে টাকা খরচাতে হয় তবে বেপারটা কেমন দেখায়? যদিও আমি যে লিখছি তাতে টাকা লাগছে না বা আপনি পড়ছেন তাতেও টাকা লাগছে না।
শুরুর দিকে যখন ইন্টারনেট ব্রাউজ করতাম তখন বেশ কষ্ট হত। এই বলে যে ইংরেজীতে তেমন পারদর্শী ছিলাম না আর বাংলা কন্টেন্ট ছিলো যৎসামান্য। ধীরে ধীরে বেপারটা মানিয়ে নিচ্ছিলাম কিন্তু যখন দেখলাম হিন্দি ও উর্দু ভাষার কন্টেন্ট সংখ্যা দিনদিন বেড়ে চলছে তখন নিজের কাছে খারাপ লাগছিলো। বারবার মনে প্রশ্ন জাগছিলো বিপুল সংখ্যক বাংলা ভাষাভাষীর মানুষ থাকা সত্বেও বাংলা কন্টেন্ট সংখ্যা এতো কম কেনো।
আমি যখন নিজ উদ্যোগে অনলাইনে বাংলা কন্টেন্ট সমৃদ্ধের চেষ্টা করলাম তখন আমাকে বলা হলো বাংলা লিখতে চাও? টাকা দাও; বাংলা পড়তে চাও? টাকা দাও; হ্যাঁ মোস্তফা জব্বার এর বিজয় কি-বোর্ডের কথা বলছি। উনার বাংলা টাইপিং এর জন্য শুধু টাকা দিতে হয় না বরং বাংলা পড়তেও যে বিজয় ফন্ট ইন্সটল করতে হয়। এতোটুকুও মেনে নিতে রাজি ছিলাম, সমস্যা দাঁড়ালো যেখানে ইংরেজী টাইপ করা এতো সহজ সেখানে বাংলা টাইপিং এর জন্য আলাদাভাবে কী-গুলো মনে রাখতে হয়। আকার, একার, যুক্তবর্ণের জন্য আবার আলাদা আলাদা কী। এতো কষ্ট করা তো আমাকে দ্বারা সম্ভব না বাপু।
পর্তুগিজ লেখক পাওলো কোহেলের একটা কথা আছে যে, "যখন তুমি কিছু পাবার জন্য অন্তর দিয়ে চেষ্টা করবে, তখন তা পাইয়ে দিতে সারা পৃথিবী ফিসফিস শুরু করে দিবে।" আমিও সহজ এবং বিনামূল্যের কিছু খুচ্ছিলাম তখনই খোঁজ পেলাম এমন এক কী-বোর্ডের যাতে টাইপিং খুবই সহজ এবং চালাতেও পয়সা লাগে না। নাম অভ্র, অভ্র কী-বোর্ড। এমনকি তাদের মটো, "ভাষা হোক উন্মুক্ত।" এখানে মজার বেপার হলো এ কী-বোর্ডের ডেভলপার মেহেদী হাসান একজন মেডিকেল স্টুডেন্ট। মেডিকেলের ছাত্র হওয়া সত্বেও সে ভাষার স্বাধীনতার দায়বদ্ধতা থেকে ডেভলপ করেছিলো উন্মুক্ত বাংলা লেখনী কী-বোর্ড।
১৮ কোটি বাঙ্গালির জন্য রফিক শফিক বরকত জব্বার ভাষা সৈনিক কিন্তু আমার কাছে আরেকজন ভাষা সৈনিক মেহেদী হাসান ভাই। আমার ভাষার প্রতি আবেগ, ভালোবাসা, অনুভূতি কখনো-ই ভাষা শহীদ কিংবা ভাষা সৈনিকদের পর্যায়ে যাবে না। তবে আমার সম্মান ও ভালোবাসা যতটা ভাষা সৈনিকদের প্রতি থাকবে ততটাই থাকবে অভ্র কী-বোর্ড তথা ওমিক্রনল্যাব টিমের প্রতি। কারণ বাংলা বলার অধিকার বায়ান্নোতে পেয়েছিলাম কিন্তু উন্মুক্তভাবে অনলাইনে লিখার ও পড়ায় পাই অভ্রের কল্যানে।
সন্ধ্যা ৭ঃ০০
২১ ফ্রেব্রুয়ারী ২০২০
আমি বাংলা, হিন্দি, উর্দু, ইংলিশ সব বলি। আমার কাছে ভাষার বিশেষ কোনো বিশেষত্ব নেই, কারন এটাকে আমার অর্জন করতে হয় নি, উত্তরাধিকার সুত্রে পেয়েছি। রফিক শফিক বরকত জব্বারের কাছে বিশেষ কারন ছিলো বলেই তাঁরা এ ভাষার জন্য জীবন পর্যন্ত দিতে পেরেছিলো। ২১ শে ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হলেও আসাম সহ ভারতের কয়েকটি রাজ্যে ১৯ মে কে বাংলা ভাষা শহীদ দিবস হিসেবে পালন করা হয়। শুধু যে পাকিস্তানীরা মায়ের ভাষা, মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিলো তা কিন্তু না; ইতিহাসে এমন আরও ঘটনা আছে। পশ্চিমবঙ্গের দিকে হিন্দি ভাষার আগ্রাসন জানান দেয় ভারতীয়রাও পাকিস্তানিদের থেকে কোনো অংশে কম না। এছাড়া আসামের বরাক উপত্যকায় ১৯৬১ সালের ১৯শে মে ১১ জন জীবন দিয়েছিলো বাংলা ভাষার সম্মান রক্ষার্থে।
জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলা ভাষার অবস্থান ষষ্ঠ। আর পৃথিবীতে একমাত্র নজির যে শুধুমাত্র বাংলা ভাষাভাষী মানুষেরাই ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে। একবার নয় দু-দুবার, তো এদের থেকে ভাষার স্বাধীনতার মূল্য হয়ত ভালো কারও জানার কথা নয়। কিন্তু যে ভাষার জন্য এতো কিছু সে ভাষা-ই যদি অনলাইনে লিখতে বা পড়তে টাকা খরচাতে হয় তবে বেপারটা কেমন দেখায়? যদিও আমি যে লিখছি তাতে টাকা লাগছে না বা আপনি পড়ছেন তাতেও টাকা লাগছে না।
শুরুর দিকে যখন ইন্টারনেট ব্রাউজ করতাম তখন বেশ কষ্ট হত। এই বলে যে ইংরেজীতে তেমন পারদর্শী ছিলাম না আর বাংলা কন্টেন্ট ছিলো যৎসামান্য। ধীরে ধীরে বেপারটা মানিয়ে নিচ্ছিলাম কিন্তু যখন দেখলাম হিন্দি ও উর্দু ভাষার কন্টেন্ট সংখ্যা দিনদিন বেড়ে চলছে তখন নিজের কাছে খারাপ লাগছিলো। বারবার মনে প্রশ্ন জাগছিলো বিপুল সংখ্যক বাংলা ভাষাভাষীর মানুষ থাকা সত্বেও বাংলা কন্টেন্ট সংখ্যা এতো কম কেনো।
আমি যখন নিজ উদ্যোগে অনলাইনে বাংলা কন্টেন্ট সমৃদ্ধের চেষ্টা করলাম তখন আমাকে বলা হলো বাংলা লিখতে চাও? টাকা দাও; বাংলা পড়তে চাও? টাকা দাও; হ্যাঁ মোস্তফা জব্বার এর বিজয় কি-বোর্ডের কথা বলছি। উনার বাংলা টাইপিং এর জন্য শুধু টাকা দিতে হয় না বরং বাংলা পড়তেও যে বিজয় ফন্ট ইন্সটল করতে হয়। এতোটুকুও মেনে নিতে রাজি ছিলাম, সমস্যা দাঁড়ালো যেখানে ইংরেজী টাইপ করা এতো সহজ সেখানে বাংলা টাইপিং এর জন্য আলাদাভাবে কী-গুলো মনে রাখতে হয়। আকার, একার, যুক্তবর্ণের জন্য আবার আলাদা আলাদা কী। এতো কষ্ট করা তো আমাকে দ্বারা সম্ভব না বাপু।
পর্তুগিজ লেখক পাওলো কোহেলের একটা কথা আছে যে, "যখন তুমি কিছু পাবার জন্য অন্তর দিয়ে চেষ্টা করবে, তখন তা পাইয়ে দিতে সারা পৃথিবী ফিসফিস শুরু করে দিবে।" আমিও সহজ এবং বিনামূল্যের কিছু খুচ্ছিলাম তখনই খোঁজ পেলাম এমন এক কী-বোর্ডের যাতে টাইপিং খুবই সহজ এবং চালাতেও পয়সা লাগে না। নাম অভ্র, অভ্র কী-বোর্ড। এমনকি তাদের মটো, "ভাষা হোক উন্মুক্ত।" এখানে মজার বেপার হলো এ কী-বোর্ডের ডেভলপার মেহেদী হাসান একজন মেডিকেল স্টুডেন্ট। মেডিকেলের ছাত্র হওয়া সত্বেও সে ভাষার স্বাধীনতার দায়বদ্ধতা থেকে ডেভলপ করেছিলো উন্মুক্ত বাংলা লেখনী কী-বোর্ড।
১৮ কোটি বাঙ্গালির জন্য রফিক শফিক বরকত জব্বার ভাষা সৈনিক কিন্তু আমার কাছে আরেকজন ভাষা সৈনিক মেহেদী হাসান ভাই। আমার ভাষার প্রতি আবেগ, ভালোবাসা, অনুভূতি কখনো-ই ভাষা শহীদ কিংবা ভাষা সৈনিকদের পর্যায়ে যাবে না। তবে আমার সম্মান ও ভালোবাসা যতটা ভাষা সৈনিকদের প্রতি থাকবে ততটাই থাকবে অভ্র কী-বোর্ড তথা ওমিক্রনল্যাব টিমের প্রতি। কারণ বাংলা বলার অধিকার বায়ান্নোতে পেয়েছিলাম কিন্তু উন্মুক্তভাবে অনলাইনে লিখার ও পড়ায় পাই অভ্রের কল্যানে।


Comments
Post a Comment