বুধবার
রাত ১ঃ০৫
১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০
খুব কাঁচা বয়স থেকে মোবাইল হাতে নাড়াচাড়া করতাম। এসএসসির আগে ইন্টারনেট আর কম্পিউটারের ছোঁয়া পাই, সালটা সম্ভবত ২০১০/২০১১ হবে। যদিও গ্রামে মোবাইল ইন্টারনেট কম্পিউটার এখনো দুর্লভ বস্তু হিসেবে মানা হয়। কলেজে উঠে ভাইয়ার আধা পুরোনো মাল্টিমিডিয়া ফোন পেয়েছিলাম যাতে ইন্টারনেট ভালোভাবেই চলত।
সায়েন্সের হেল্প নিয়ে নিজের স্কিল কাজে লাগিয়ে এমন কিছু তৈরি করা বা আবিষ্কার করা যা মানুষের কাজে লাগে তাই টেকনোলজি। কিন্তু টেকনোলজি বা প্রযুক্তি বলতে যাই বোঝাক না কেনো আমরা বাঙালীরা মোবাইল আর ইন্টারনেট ছাড়া কিচ্ছু বুঝি না। এর এই দুইয়ের বিচারে যদি আপনি প্রযুক্তিকে দুশতে চান তাহলে আপনার পারসেক্টিভে আমি একটুখানি ঠোকা দিতে চাই।
উপরের ছবিটি এখুন, একটা সাদাকালো যুগের আরেকটি এই সময়ের। খালি চোখে দেখলে পার্থক্যটা শুধু পত্রিকা ছেড়ে মোবাইল হাতে। আপনি যদি এতে এলাহীকাণ্ড করে বসেন তাহলে বলতে হয় ছবিটি আরেকবার দেখুন। কোনো মিল পাচ্ছেন, হ্যাঁ ছবিতে মিল হলো দুটোই ট্রেনের যাত্রি, দাড়িয়ে আছে এবং মোস্ট ইপোর্ট্যান্ট কেউ কারও সাথে কথা বলছে না। হিউম্যান কানেকশন এখানে শুণ্যের কোঠায় বললে ভুল হবে না। প্রযুক্তি আশির্বাদ না অভিশাপ এটা ডিবেট করার বিষয় নয়। এটা কোনো সময় আপনার পক্ষে কাজ করবে, কোনো সময় করবে না। তাই বলে পুরো সিস্টেমকে দোষারোপ করবেন, এটা কখনোই গ্রহনযোগ্য নয়। মোবাইল-ইন্টারনেটের ক্ষেত্রেও একই, তবে মোবাইল-ইন্টারনেট অবশ্যই আমাদের জন্য ক্ষতিকর। শুধু ক্ষতিকর নয় মারাত্মক ক্ষতিকর। কিন্তু ফ্যাক্ট নিয়ে কথা না বলে এইসব ছোটখাট অবান্তর উদাহরণ দিয়ে নিজেদের দুর্বলতা ঢাকার কোনো মানে হয় না। মোবাইল ফোনের হাজারো অপকারিতা আছে, আমাদের সেগুলো নিয়ে কথা বলা উচিত। আমাদের উচিত এই সমস্যাগুলোর গভীরে গিয়ে এর সমাধানের পথ খুঁজে বের করা।
তা না করে আমরা কি করছি, আমরা করছি 'দেখ দেখ মোবাইল কিভাবে পত্রিকা না পড়িয়ে সমাজটাকে নষ্ট করে দিচ্ছে।' অথচ ছবিতে পত্রিকা পড়াও মোবাইল আসক্তির মতো বড় সমস্যা। মোবাইল আসক্তি নিয়ে লেখা গবেষণার বেপার। শুধু লিখলে হবে না, এর শুরু থেকে শেষ; উপকারিতা অপকারিতা; উৎপত্তি এমনকি নির্মুলের উপায় নিয়েও বিস্তার জ্ঞান রাখতে হবে। এ নিয়ে ভাসা-ভাসা ধারনা আমাদের সকলেরই কমবেশি আছে। আমি আজ মোবাইল আসক্ত হলে এ দায় শুধু আমার একার না। আমার বাবা-মা, ভাই-বোন, পরিবার, বন্ধুদের এমনকি স্কুল কলেজে শিক্ষক ও সমাজের উপরেরও বর্তায়।
বেপারটা আমরা যতটা সহজ মনে করি আসলে ততটা সহজ নয়। এ নিয়ে হয়ত বিস্তারিত কোনোদিন লিখব। অনেক চাপা কথা উঠে আসবে কিন্তু সারমর্ম হয়ত সেটাই থাকবে যা আগেও ছিলো। প্রযুক্তি আশির্বাদ না, অভিশাপও না। ইটস ডিপেন্ড টু ইউ। আপনি কিভাবে নিচ্ছেন তাতে।

Comments
Post a Comment